দেশব্যাপী প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ১৭০০ বিক্ষোভকারীকে। বৃহস্পতিবার এমন দাবি করেছেন জাতিংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান। 

বুধবার একদিনে ৩৮ জন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যার পর এক বিবৃতিতে তিনি সামরিক জান্তাকে হত্যাকাণ্ড থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভির।

জাতিংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাচলেট শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদী জনতার জঘন্য হামলার বিষয়টা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই প্রতিবাদী জনগণের ওপর গুলি চালানো এবং তাদের আটক করে জেলে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারীদের এভাবে হত্যা করাটা একটা ঘৃণ্য ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন মানবাধিকার সংস্থার প্রধান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী কমপক্ষে ৫৪ জনকে হত্যা করেছে। প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা।

বুধবার জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা ৩৮টি মৃত্যুর মধ্যে ৩০ টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী  ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়, সাগাইং, ম্যাগওয়ে এবং সোমেইতে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৭০০ জনেরও বেশি লোককে প্রতিবাদে অংশ নেয়া কিংবা রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে নির্বিচারে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক ও অধিকারকর্মী, নির্বাচনী কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, সাংবাদিক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।  

বিবৃতিতে ব্যাচলেট যারা নির্বিচারে আটক রয়েছেন তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারকে সেনারাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনার জন্য সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।