প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল দম্পতির ছেলে অর্চির গায়ের রঙ ফর্সা না কালো হবে তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিল ব্রিটিশ রাজপরিবার।

মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ্ উইনফ্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মেগান সম্প্রতি এতথ্য জানান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

হ্যারি-মেগান দম্পতির এক বছর বয়সী ছেলে অর্চি ব্রিটিশ সিংহাসনের সপ্তম উত্তরাধিকারী এবং রানি এলিজাবেথের অষ্টম পুতি। হ্যারি ও তার মার্কিন স্ত্রী মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়েছেন এরই মধ্যে।

সাক্ষাৎকারে মেগান রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন। রাজপরিবার থেকে পাওয়া বৈষম্য তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

৩৯ বছর বয়সী মেগানের মা কৃষ্ণাঙ্গ এবং বাবা শেতাঙ্গ। রাজপরিবারে বিয়ে হওয়ার আগে তিনি বেশ সাধারণ মানুষ ছিলেন। তবে বিয়ের পরই তার জীবনের অনেক কিছুই পাল্টে যায়। অনেক কথা শুনতে হয়েছে।

মেগান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে; আত্মহত্যা কিংবা নিজের ক্ষতি করার কথা ভাবতে থাকেন তিনি।

তিনি জানান, ছেলে অর্চির বয়স এখন এক বছর। প্রিন্স পদবি গ্রহণ করবে না সে। কারণ তার জন্মের আগেই রাজপরিবারে কথা উঠেছিল; তার গায়ের রঙ ফর্সা নাকি কালো হবে তা নিয়ে।

মেগান বলেন, রাজপরিবার তাকে প্রিন্স বানাতে চায়নি।রাজপরিবার বলেছিল- জন্মের সময় তার ছেলের গায়ের রঙ না জানি কতই না কালো হবে!

রাজপরিবারের কোন সদস্য তাদের সন্তান অর্চিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিল তা জানাতে চাননি হ্যারি-মেগান।

হ্যারি ও তার মার্কিন স্ত্রী মেগান রাজকাজ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এক বছর আগে। রাজপরিবারের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে তাদের নেওয়া এ সিদ্ধান্তে ঝাঁকুনি খেয়েছিল ব্রিটিশ রাজপরিবার।

সম্প্রতি হ্যারি ও মেগান জানিয়ে দেন, তারা আর কখনো রাজদায়িত্বে ফিরছেন না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ডিউক অব সাসেক্স ও ডাচেস অব সাসেক্সকে তাদের রাজকীয় উপাধি এবং রাজপরিবার থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর গত বছর হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান। এরপর থেকে এক নতুন জীবন শুরু করেছেন এ দম্পতি।


মন্তব্য করুন