যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো জোট আফগানিস্তান থেকে তাদের সৈন্যদের সরিয়ে নিলে পুরো দেশজুড়ে তালেবান দ্রুত সামরিক শক্তি লাভ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

তালেবান ও পূর্ববর্তী ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে যেসব মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে, তাদের আগামী মাসের শেষের দিকে দেশটি ত্যাগ করার কথা। এই সময়ে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির কাছে লেখা একটি চিঠিতে ব্লিংকেন সতর্ক করে বলেছেন, এই তালেবান হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। খবর বিবিসির

জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তালেবানের সঙ্গে যে শান্তি চুক্তি হয়েছিল, তারা সেটা পর্যালোচনা করবে।

এই চুক্তির আওতায়, তালেবানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আফগানিস্তানে থাকা মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটোর বাকি ১০ হাজার সেনাকে পহেলা মে’র মধ্যেই সরিয়ে নেওয়ার কথা।

হোয়াইট হাউস এখন বলছে, এই সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার আগে তারা নিশ্চিত হতে চায়, আফগান জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের ‘প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাজ করছে’। বিশেষ করে সহিংসতা হ্রাস এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করছে।

দেশটিতে সহিংসতার মাত্রা এখনও অনেক বেশি, সাংবাদিক, অ্যাকটিভিস্ট, রাজনীতিবিদ এবং নারী বিচারকদের লক্ষ্য করে হত্যা করা হচ্ছে।

ব্লিংকেনের দেওয়া ওই চিঠিটি রোববার হাতে পেয়েছে বিবিসি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানে ৯০ দিনের মধ্যে সহিংসতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যেন স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেন আরও অবনতি না হয়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

জাতিসংঘকে বলা হবে, সংস্থাটি যেন এ অঞ্চলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বৈঠকে বসে। ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে তুরস্ক সম্ভাব্য স্থান হতে পারে।

মার্কিন সেনারা ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আক্রমণ করে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল।