জাতিসংঘের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে গড়ে ২৫.৫ শতাংশ নারী, যা এখন পর্যন্ত সর্বকালের সর্বোচ্চ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে (৮ মার্চ) সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত আইপিইউয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। গত শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। খবর ইউএন নিউজের

মার্টিন চুংগং বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, এখন বিশ্বজুড়ে সংসদ সদস্যদের এক চতুর্থাংশেরও বেশি নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে পার্লামেন্টে নারী সদস্যের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। 

আইপিইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় পার্লামেন্টে নারী সদস্যের হার ১৭ শতাংশের কিছু বেশি। এর মধ্যে নেপালের পার্লামেন্টে নারী সদস্য সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে নিম্নকক্ষে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ ও উচ্চকক্ষে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী সদস্য। আফগানিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ২৭ শতাংশ, উচ্চকক্ষে তা প্রায় ২৮ শতাংশ।

বাংলাদেশে বর্তমান সংসদে ৩৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৭৩ জন অর্থাৎ প্রায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। এক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। 

রুয়ান্ডা, কিউবা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পার্লামেন্টে অর্ধেক বা এর বেশি নারী সদস্য রয়েছেন। পার্লামেন্টে নারী সদস্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ায় এ সময় ওই তিন দেশকে ধন্যবাদ জানান মার্টিন চুংগং। 

তবে পার্লামেন্টে নারী-পুরুষ বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে নারী-পুরুষের সমতায় পৌঁছাতে লাগবে আরও ৫০ বছর। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

আইপিইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের নতুন পার্লামেন্টে নারী সদস্যের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশের বেশি। অস্ট্রেলিয়ায় এ হার ৩১ শতাংশ। আর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ, উচ্চকক্ষে প্রায় ২৮ শতাংশ। জার্মানির নিম্নকক্ষে এ হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, উচ্চকক্ষে ৩৬ শতাংশের কিছু বেশি।

এদিকে কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নারী সদস্যের হার ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষে তা ৪৯ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নারী সদস্যের হার ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটে ২৫ শতাংশ। 

এছাড়া চীন ও সৌদি আরবের পার্লামেন্টে নারী সদস্যের হার যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ।