প্রিন্স হ্যারি ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের বোমা ফাটানো সাক্ষাৎকার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে চারদিকে। সংকটে পড়েছে খোদ রাজপরিবারও। অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের সাক্ষাৎকারের পর জরুরি বৈঠকে বসেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা। 

বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে তাদের এ অভিযোগের বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে কিছু বলতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন বিবিসির রাজকীয় সংবাদদাতা ড্যানিয়েলা রিল্ফ। খবর বিবিসি, এএফপি ও সিএনএনের।

সিবিএস টেলিভিশনে অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে রাজপরিবারের বর্ণবাদ, মানসিক স্বাস্থ্য, মিডিয়া ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কথা বলেছেন এ দম্পতি। সোমবার স্থানীয় সময় রাতে যুক্তরাজ্যের প্রায় ১১.১ মিলিয়ন মানুষ সাক্ষাৎকারটি দেখেছেন।

সাক্ষাৎকারে মেগান বলেছেন, ছেলে আর্চির জন্ম হওয়ার আগেই তার গায়ের রং কতটা কালো হবে তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল রাজপরিবারে। পরিবারের মধ্য থেকেও এত বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছিলেন, একটা সময় বেঁচে থাকার ইচ্ছাই হারিয়ে ফেলেছিলেন ডাচেস অব সাসেপ। ভাবছিলেন আত্মহত্যা করবেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কথা বলার যাদের সাহস আছে, তিনি তাদের প্রশংসা করেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি ৩৬ বছর বয়সী হ্যারি ও ৩৯ বছর বয়সী মেগানকে 'ব্যক্তিগত নাগরিকত্ব' দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তারা নিজেদের সংগ্রামের কথা ভাগ করে নিয়েছেন সবার সঙ্গে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও মেগানের প্রশংসা করে বলেন, তার মাথা নিচু করে সব মেনে নেওয়ার কথা ছিল না। কারণ এটা ২০২১ সাল।

এদিকে লেবার নেতা স্যার কায়ার স্টারমার বলেন, বর্ণবাদ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার বিষয় নিয়ে মেগানের অভিযোগকে 'খুব গুরুত্ব সহকারে' দেখা উচিত।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সোমবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি রানীর পক্ষে সর্বাধিক প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, যখন রাজপরিবারকে নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হয়, তখন একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করাই ভালো। বিশেষ করে যখন তার কাছে রাজপরিবার বর্ণবাদী কিনা- এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় তখন।

উইনফ্রের এক প্রশ্নের জবাবে মেগান বলেন, বাকিংহাম প্যালেসের একজন শিকারে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তার ছেলে আর্চির গায়ের রং কত কালো হতে পারে, সে অনুমান করা থেকে শুরু করে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কতবার মধ্যাহ্নভোজে গেছেন সবকিছুতে নাক গলাত প্যালেস।

যখন আর্চি গর্ভে ছিল, তখন তাকে জানানো হয়, তার সন্তানকে প্রিন্স বা সিকিউরিটি উপাধিতে ভূষিত করা হবে না। যদিও এটি ছিল প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম। এটি তাকে মর্মাহত করেছিল। তিনি আশা করছিলেন তাকে প্রিন্স উপাধি দেওয়া হোক, যাতে সে পুলিশি সুরক্ষা পায়।