মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ভিক্ষুরা। ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ‘সশস্ত্র সংখ্যালঘু’ একটি গোষ্ঠী নিরীহ বেসামরিকদের ওপর নির্যাতন ও হত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 

দেশটির ভিক্ষুদের সবচেয়ে বড় অ্যাসোসিয়েশন ‘দ্য স্টেট সংঘ মহানায়ক কমিটি’ মিয়ানমারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে বলে এক ভিক্ষু জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের

মিয়ানমারের রাজনীতিতে বরাবরই ভিক্ষুদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ২০০৭ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তারা বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেসময় এই আন্দোলন তীব্র না হলেও গণতান্ত্রিক সংস্কারে এটি সহায়তা করেছিল।

অ্যাসোসিয়েশনটির কোনো নেতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। দেশটির সরকারের সঙ্গে ভিক্ষুদের অ্যাসোসিয়েশনটি খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। তবে এখন তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ বলে দিচ্ছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বিভেদ তৈরি হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে চলছে অভ্যু্ত্থানবিরোধী বিক্ষোভ। চলমান এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। 

দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরও এক একজন নিহত হয়েছেন।

এরপরও বুধবার সকাল থেকে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীরা ফের জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। পূর্বদিকে ডেমসো, ইরাবতী নদী বদ্বীপে প্যাথেইন এবং দক্ষিণে দাউইয়ে কয়েক শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। 

দ্বিতীয় বড় শহর মান্দালয়ে এবং কেন্দ্রীয় শহর মনোওয়ার বাসিন্দারাও বিক্ষোভ করছেন।