যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার জন্য তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। এ অবস্থায় তার অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

এবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করার ব্যাপারে তার অসম্মতির কথা জানান। খবর এনডিটিভির। 

এর আগে দেশটির হোমল্যান্ড সিক্যুরিটি বিভাগের প্রধান তাদের অভিবাসন নীতিমালার বিষয়ে কথা বলেন। ঘণ্টাকয়েক পরেই প্রেসিডেন্ট নিজেও এ বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের কঠোর নীতিমালা তুলে দেয়ায যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ বেড়েছে বলে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ২০১৯/২০২০ সালেও শরণার্থীদের এই ধরনের চাপ ছিল।

বাইডেন বলেন, আমি শুনেছি, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ধারণা আমি খুব ভাল লোক। তাই তারা এখানে আসতে চাইছে। কিন্তু আমি বলে দিচ্ছি, এটা তাদের ধারণা মাত্র, এটা চুক্তি নয়। আমি তাদের উদ্দেশে পরিষ্কার করে বলছি, আপনারা আসবেন না। আপনাদের শহর, দেশ বা সম্প্রদায় ছেড়ে আসবেন না।

গত ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্সিয়াল দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই বাইডেন তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত নীতি বাতিল করে দেন। এগুলোর মধ্যে ছিল মেক্সিকো দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিভাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ সৃষ্টির পথ উন্মোচন করে দেয়া। রিপাবলিকান সমালোচকরা তার এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, বাইডেনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে আগমণকারীদেরই উৎসাহিত করবে।

শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাকার্থি তার দলীয় সাংসদদের নিয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পরিদর্শন করে এসে অভিযোগ করেন, বাইডেন সঙ্কট সমাধান নয়, সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। তবে বাইডেনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান আলেজান্দ্রো মায়োরকাস মঙ্গলবার প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পক্ষে কথা বলেছেন।  

২ দশকের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে চাইছে, এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা হঠাৎ চাপ। তবে এসব চাপ আগেও ছিল। ২০১২, ২০১৪ এবং এর আগেও হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখছি, প্রচলিত আইন প্রয়োগ করছি এবং আমাদের মূল্যবোধ এবং নীতিগুলোর ব্যাপারে সৎ থাকছি।’