উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, কিন্তু উত্তর কোরিয়া তাতে কোনো সাড়াই দিচ্ছে না, এ খবর বেশ কিছুদিন ধরে। সেই ধারবাহিকতায় এবার হুঙ্কার দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মূলত উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবরে তিনি উত্তেজিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার স্বল্প পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কখনই মেনে নেবেন না তিনি। অবশ্য এটা ‘নতুন কিছু না’, ‘উস্কানিমূলকও নয়’, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এটাকে ‘যথারীতি ব্যবসা’ বলছেন বলেও জানিয়েছেন বাইডেন। এদিকে দায়িত্বগ্রহণের পর এই প্রথম জো বাইডেন উত্তেজিত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিবিসির

কথিত আছে উত্তর কোরিয়া সপ্তাহখানেক পরপর নন-ব্যালিস্টিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে। যা আবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে না বলেও মনে করে পিয়ংইয়ং।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জো বাইডেন এ কথা তখনই বলছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিজেদের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। একইসঙ্গে এ কথা এসেছে, পিয়ংইংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অব্যাহত চেষ্টার একটা অংশ থেকেও।

তবে উত্তর কোরিয়া যে নন-ব্যালিস্টিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, সেই খবর মূলত মার্কিন মিডিয়াতেই প্রকাশ পাচ্ছে এবং খবরগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষার মন্ত্রণালয়ের বরাতই দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতিও দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, গত রোববার ভোরেও উত্তর কোরিয়ার ওনচোন থেকে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। মূলত এ দুই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই এ প্রসঙ্গে কথা বলেন জো বাইডেন। মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, আমরা জেনেছি, উত্তর কোরিয়ার কোনো পরিবর্তনই হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বাইডেন উস্কানিমূলক হিসেবে মনে করছেন কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ না, এটা প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে ‘যথারীতি একটি ব্যবসা’। তবে আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেব না’। এছাড়া উত্তর কোরিয়া যা করছে, তাতে নতুন কোনো আভাস নেই বলেও মন্তব্য করেন বাইডেন।

এর সপ্তাহখানেক আগে বাইডেন প্রশাসন জানায়, তারা গত ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর কোরিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পিয়ংইয়ংয়ের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দু’পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন নানা উপায়ে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়েছে বলেও জানান মার্কিন কর্মকর্তারা।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দেশ দুটি আগের অবস্থানেই অনড় আছে। বাইডেনের পূর্বসূরি ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে তিন দফা বৈঠক হলেও এ ইস্যুতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার ওই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোও পিয়ংইয়ংকে তার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা দমাতে পারেনি।