পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটে দাগী প্রার্থীর সংখ্যা ৪৩। তারা এক বা একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। অপরদিকে, কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে আছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মাত্র ৫০০ টাকার সম্পদ নিয়েও ভোটে লড়ছেন এক প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং এডিআর নামে দুটো বেসরকারি সংস্থা। ভারতের প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের সময় প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে থাকে এডিআর।

দ্বিতীয় দফার ৩০টি আসনে ১৭১ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্নেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ৩৬ জন (২১ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর ফৌজদারি মামলা। সিপিএমের ১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপির ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন, তৃণমূলের ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন এবং কংগ্রেসের ৯ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা রয়েছে। একজন নারী প্রার্থীর নামেও খুনের অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে ৫ কোটি টাকা বা তার বেশি সম্পদ আছে এমন প্রার্থী ৮ জন। ২ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা আছে ৯ জনের। ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা আছে ৪১ জনের। ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে আছেন ৫৪ জন। ১০ লাখ টাকারও কম রয়েছে এমন প্রার্থী ৫৯ জন।

১৭১ প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি ২৬ জন। এর মধ্যে তৃণমূলের ১১, বিজেপির ১০ ও কংগ্রেসের ২ জন। এ দফায় সবচেয়ে ধনী প্রার্থী বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার ভারতী ঘোষ। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি টাকার বেশি।

সবচেয়ে কম সম্পদ বাঁকুড়ার বিএসপি প্রার্থী সাধন চট্টরাজের। তার স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৫০০ টাকা। একই দলের কোতলপুরের প্রার্থী হারু রায়েরও স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১০০০ টাকা। বিজেপি প্রার্থী নির্মল কুমার ধাড়ার স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১৭০০ টাকা।

শনিবার প্রথম দফায় ভোট হবে এ রাজ্যে। ৮ দফায় ভোট চলবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ফল প্রকাশ করা হবে ২ মে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে আছে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস।