পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বাকি ছয় ধাপের ভোট নিয়ে বিজেপির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর প্রচার চালাচ্ছেন। শনিবার পৃথক জনসভা থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে সমালোচনার তোপ ছোড়েছেন দুইজনই।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রায়দিঘি ও দিনহাটায় নির্বাচনী জনসভা করেন মমতা। সেখানে মোদিকে ফের বহিরাগত বলে আক্রমণ করে মমতা বলেন, তিনি বাংলায় বিভাজন ঘটাতে চান। বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চান। এ রাজ্যের ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ, আপনারা বিভাজনের পক্ষে ভোট দেবেন না।

এর আগে দ্বিতীয় ধাপে নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের দিন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জনসভায় 'দিদি'খ্যাত মমতাকে তীব্র আক্রমণ করে বক্তব্য দেন মোদি। তিনি বলেন, দিদির মুখ দেখে পরিষ্কার, নন্দীগ্রামে হেরে গেছেন, অন্য কোনো আসনে দাঁড়াবেন, সেটিই খুঁজছেন তিনি।

ওই বক্তব্যের পাল্টা হিসেবে মোদির নাম উচ্চারণ না করে তাকে 'বহিরাগত গুণ্ডা' বলে আখ্যা দেন মমতা। পরে তৃণমূল থেকে জানানো হয়, অন্য কোনো আসন নয়, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বারাণসি থেকেই লড়াই করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার হরিপালের জনসভায় এ প্রসঙ্গে আরও বড় তোপ ছোড়েন মোদি। তিনি বলেন, 'মাথায় তিলক দেওয়া ও জয়শ্রী রাম বলা অনেক মানুষ পাবেন বারাণসিতে। তাদের বিষয়ে আপনার অবস্থান কী হবে? কার সঙ্গে আপনি রাগ দেখাবেন? সেখানে তারা আপনার সঙ্গে বসবাস করবে। আপনাকে তারা দিল্লিতে যেতে দেবে না, সেখানেই রেখে দেবে।' অর্থাৎ বারাণসিতেই মমতার নির্বাসন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মোদি।

সম্প্রতি মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে শনিবারের নির্বাচনী জনসভায়ও মমতা অভিযোগ করেন, 'গুণ্ডা আনতে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন মোদি।' বিজেপির 'অনুপ্রবেশ' অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে মমতা বলেন, 'অন্য সময় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশকারী নিয়ে আসছেন। আর নির্বাচনের সময় (মোদি) ভোট চাইতে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কি জানেন, বাংলাদেশে অনুকূল ঠাকুরের মন্দির আছে, কী তার ঐতিহ্য!'

বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বেই- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকারি কর্মচারীদের এখনই নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, বিজেপি সরকারে আসার পর সবার আগে কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে আমি অবশ্যই আসব।