অন্যান্য দিনের মতো গতকাল সোমবারও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় উত্তপ্ত ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে এ দিনের উত্তাপে নতুন মাত্রা যোগ করেন বলিউড অভিনেত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন। জনগণ ও গণমাধ্যমের চোখ ছিল তার ওপর। বলিউডের প্রভাবশীল অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের সহধর্মিণী জয়া কলকাতায় তৃণমূলের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তার বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, 'মমতাজির পা ভাঙতে পারলেও তার হৃদয় ভাঙতে পারেনি ওরা।' 'ওরা' বলতে জয়া যে বিজেপিকেই বুঝিয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। এ অবস্থায় জয়ার আগমনে ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আট ধাপের মধ্যে তৃতীয় ধাপে আজ ৩১টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। এ নিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূলের পক্ষে জয়া বচ্চনের মাঠে নামার ঘটনাটি মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজেপির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পাশপাশি বড় তারকা হিসেবে মাঠে নেমেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। জয়াকে মাঠে নামিয়ে বিজেপির এই তারকা প্রচারকদের আলো খানিটা যেন কেড়ে নিল তৃণমূল।

গত রোববার কলকাতায় আসেন জয়া বচ্চন। সোমবার থেকে তৃণমূলের পক্ষে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। এদিন কলকাতায় তৃণমূল ভবনে দলটির নেতা দোলা সেন ও পূর্ণেন্দু বসুকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে শুরুতে নিজেকে 'প্রবাসী বাঙালি' হিসেবে পরিচয় দেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' গানের দুটি লাইনও পাঠ করেন। নিজেকে 'বাংলার মেয়ে' হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমি জয়া বচ্চন। আগে জয়া ভাদুড়ি ছিলাম। বাবার নাম তরুণ কুমার ভাদুড়ি। আমরা প্রবাসী বাঙালি।'

স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণে জয়া বলেন, 'এখানে অভিনয় করতে আসিনি। যে কাজ দেওয়া হয়েছে, পালন করতে এসেছি।'

জয়া বচ্চন বলেছেন, 'মমতাজির জন্য ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। কারণ একজন নারী সব ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে একাই লড়ছেন। তার মাথা ভেঙে দিয়েছে, পা ভেঙে দিয়েছে, কিন্তু তার হৃদয় ও মস্তিস্ককে ভাঙতে পারেনি ওরা। বাংলাকে বিশ্বসেরা করার জন্য তার যে দৃঢ়তা, তাতেও চিড় ধরাতে পারেনি।'

বলিউডের বাঙালি তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে ইতোমধ্যেই প্রচারে নামিয়েছে বিজেপি। তার পাল্টা হিসেবেই জয়াকে তৃণমূল আসরে নামিয়েছে বলে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এরই মধ্যে জয়াকে নিয়ে মন্তব্যও করেছেন। তিনি বলেছেন, 'মিঠুন চক্রবর্তীর একটা পা বাংলায় ছিল, কিন্তু জয়ার তা ছিল না।'

২০০৬ সালে জমি আন্দোলনের সময় থেকে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় তৃণমূলের। সেই দলেরই রাজ্যসভার সাংসদ জয়া। পার্টির শীর্ষ নেতা অখিলেশ যাদবের পরামর্শে তৃণমূলের পক্ষে প্রচারে বাংলায় এসেছেন তিনি। ৮ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রচার চালাবেন। তবে তার এই আগমনের বিষয়ে বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা হুমকির সুরে বলেছেন, 'জয়ার এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভালো হয়নি।'

গতকাল টালিগঞ্জ বিধানসভা আসনে তৃণমূলের অরুপ বিশ্বাসের পক্ষে প্রচার চালান জয়া। এখানে বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি আবার বলিউডেরও প্রতিনিধি। তার বিরুদ্ধে এখানে জয়ার প্রচারের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অবশ্য বাবুল দাবি করেছেন, আমার বিশ্বাস প্রচারের সময় বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বললেও জয়া বচ্চন আমার বিরুদ্ধে বললেন না।

এদিকে গতকাল মমতা চারটি জনসভা করেছেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন- যতক্ষণ থাকবে প্রাণ, ততক্ষণ লড়াই করব। ওরা (বিজেপি) একদিন পালিয়ে যাবে, আমরা পালাব না। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নাড্ডা দুটি জনসভা বাতিল হয়েছে। কলকাতায় রোড শো করেই দিল্লি চলে যান তিনি।
আট ধাপে ভোট গ্রহণ শেষে আগামী ২ মে একযোগে ফল ঘোষণা করা হবে।

বিষয় : বিধান সভা নির্বাচন

মন্তব্য করুন