মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ান। বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব পাওয়ার পর সোমবার এ সংস্থার চেয়ারম্যান দেশ ব্রুনাই এতে সম্মতি দেয়। এ জন্য ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় একটি বৈঠক আয়োজনে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে আসিয়ানের বৈঠকের ঘোষণার মধ্যেও দেশব্যাপী সমন্বিত আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন অভ্যুত্থানবিরোধীর বিক্ষোভকারীরা। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় প্রতিদিন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে টানা কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। রোববারের বিক্ষোভে গুলি ও রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন।

সোমবার সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ এবং চলমান আন্দোলনে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনের প্রশংসা করে দেশব্যাপী হাততালি কর্মসূচি পালিত হয়। এ দিন বিকেল ৫টা থেকে পাঁচ মিনিটব্যাপী হাততালি দেওয়া হয়। খরব এএফপি ও রয়টার্সের

এদিকে, আসিয়ানের আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে দেশব্যাপী সমন্বিত আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দেশজুড়ে টানা জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে। এসব আন্দোলন দমনের নামে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালায় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বাহিনী। এতে শনিবার পর্যন্ত দেশটির অন্তত ৫৬৪ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে আসিয়ানের বৈঠকের আহ্বান করা হয়। সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও ব্রুনাইর সুলতান হাসান বোলকিয়ার মধ্যে বৈঠক হয়। পরে ওই আহ্বানে সম্মতি দিয়ে এ দিনই বিবৃতি দেয় সংস্থাটি।

তারা বলেন, মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আসিয়ানের নেতারা সম্মত হয়েছেন। তবে কবে নাগাদ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে জানায়নি সংস্থাটি।

মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইর শীর্ষ দুই নেতাই মিয়ানমারে হতাহত বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আরও সহিংসতা উস্কে দেওয়া থেকে উভয়পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সব পক্ষকে সংযম ও নমনীয় হতে হবে।

এর আগে মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানায় এ সংস্থার সদস্য দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর।

সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে গত মাসের শেষ দিকে আটক হওয়া এক অস্ট্রেলীয় দম্পতিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মতো গৃহবন্দি থাকা ওই দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে তাদের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ম্যাথু ওকেন এবং ক্রিস্টা অ্যাভেরি নামে ওই দম্পতি রোববার ইয়াঙ্গুন ত্যাগ করেছেন। গত মার্চে একটি রিলিফ ফ্লাইটে বার্মা ত্যাগের চেষ্টার সময় তাদের গৃহবন্দি করে কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারে তাদের বেসপোক কনসালট্যান্সি ব্যবসা রয়েছে।