আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাহী আদেশ জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গুলি করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে অঙ্গরাজ্যটির ব্রায়ান শহরে একটি শিল্প পার্কে অবস্থিত কেন্ট মুর ক্যাবিনেটস নামের কারখানায় এ ঘটনা ঘটেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক কর্মী এই সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে। গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ছয়জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই সহিংসতায় হামলাকারী ‘হ্যান্ডগান’ ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মাঝামাঝি এলাকায় ব্রায়ান শহরটি অবস্থিত। এই অঙ্গরাজ্যেরই অ্যালেন শহরে গত সপ্তাহে বাংলাদেশি একটি পরিবারের দুই ভাই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বাবা, মা, বোন ও নানিকে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেন।

বিবিসি জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে একজনকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করেন।

নির্বাহী আদেশ জারির পর হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন তিনি। বাইডেন বলেন, আমেরিকার আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসত মহামারির আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি আমেরিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রতকর।

মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে নাগরিকদের অস্ত্র রাখার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, সংবিধানের কোনো সংশোধনীই চূড়ান্ত নয়।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন আগেয়াস্ত্রে গড়ে ১০৬ জন মানুষ নিহত হয়। এটা থামাতেই হবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন ছয়টি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বাইডেনের নির্বাহী আদেশে তথাকথিত ‘ঘোস্ট গান’ নিয়ন্ত্রণে বিচার বিভাগকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবনা জমা দিতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সহজলভ্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগ্নেয়াস্ত্র বিতর্ককে চাঙ্গা না করে বাইডেন নিজের পন্থায় ব্যবস্থা নেন।

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বাইডেনের নির্বাহী আদেশে 'অদৃশ্য' অস্ত্রসহ বৈধভাবে সহজে সংগ্রহ করা যায়, এমন হালকা আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহারের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র আইনে পরিবর্তন ছাড়া এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কোনো সফলতার আশা না করলেও বাইডেন এ নিয়ে বসে থাকতে ইচ্ছুক নন।

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলরা আগ্নেয়াস্ত্র আইনের ব্যাপারে খুবই স্পর্শকাতর। রিপাবলিকান দলের অধিকাংশ আইনপ্রণেতা বলে আসছেন, সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিকদের অস্ত্র রাখার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর হস্তক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।




মন্তব্য করুন