করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে সংক্রমণ প্রতিদিন রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়াচ্ছে দেশটি। আগামী ১ মে থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের সেখানে টিকা দেওয়া শুরু হবে।

সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির

ভারতে বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির অন্যান্য কর্মী এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। 

সব প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দিতে গেলে বাড়তি ডোজের সরবরাহ লাগবে। কিন্তু দেশটির অনেক রাজ্যে টিকা সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ফলে বাড়তি ডোজ কোথায় থেকে আসবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

গত সপ্তাহে দেশটির সরকার জানায়, তাদের কাছে এ মুহূর্তে ২ কোটি ৭০ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। বর্তমান টিকাদানের হারে যা দিয়ে মাত্র নয় দিন চালানো সম্ভব।

এখন সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনায় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলোর কাছে টিকার সরবরাহের ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উৎপাদন করছে ভারতের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট।  তবে তারা জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই উৎপাদন থমকে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে। 

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন কার্যকর করে। এতে করে দেশটির ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো কাঁচামাল সহজে কিনতে পারার সুযোগ পায়। কিন্তু এই আইনের ফলে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কাঁচামাল রপ্তানি করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। 

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আদর পুনাওয়ালা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছেন।

ভারতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার ৯৭২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ জন।


মন্তব্য করুন