জাকার্তা সম্মেলনে আসিয়ান নেতারা মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরামর্শ দিয়েছেন। এ নিয়ে একটা চুক্তিও হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। এটা পছন্দ হয়নি মিয়ানমারের জান্তা শাসনবিরোধীদের। তারা আসিয়ান নেতাদের সমালোচনা করে বলেছে, এটা হলো জান্তাশাসনকে বৈধতা দেওয়া। আর এই উছিলায় সেনাবাহিনী তাদের  ক্ষমতাকালকে যথাসম্ভব প্রলম্বিত করারও ছুঁতো পেয়ে যাবে। তাই বিক্ষোভকারীরা রোববার তারা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

শনিবার জাকার্তায় আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লায়িংয়ের বৈঠকের একদিন পর রোববার মিয়ানমারের বড় বড় শহরগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে। আসিয়ান নেতারা মিয়ানমারে হত্যা-সন্ত্রাস বন্ধ করে জনগণের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য জান্তার প্রতি আহ্বান জানালেও সে জন্য কোনো সময়সীমা বেধে দেননি।

জেনারেল স্ট্রাইকস কোলাবরেশন কমিটির একজন সদস্য খিন সান্দার বলেন, আসিয়ান বলুন আর জাতসংঘই বলুন, তারা বিষয়টিকে বাইরে থেকে দেখছে। কিন্তু আমরা এর মোকাবিলা করছি ভেতর থেকে। জান্তা কখনো সমঝোতার ধারে কাছেও আসবে না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব। এখন এটাই আমাদের পরিকল্পনা।

এদিকে শনিবার বৈঠকে যে পাঁচটি বিষয়ে আসিয়ান-জান্তা একমত হয়েছে, সেগুলো হলো সহিংসতার অবসান, সব পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা, সংলাপের সহায়তায় থাকবেন একজন আসিয়ান দূত এবং দূতের মিয়ানমার সফরে অনুমতি।আসিয়ানের চেয়ারম্যান ব্রুনাই এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। তবে ঐক্যচুক্তিতে যারা এখন মিয়ানমারে জান্তার হাতে আটক রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

আসিয়ান নেতারা মিন অং হ্লায়িংয়ের প্রতি সেনাবাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে কাজে না লাগানোর প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন। রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তা সহায়তা সংস্থা (এএপিপি) বলেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৭৪৮ জনকে হত্যা করেছে সেনারা। আটক করে রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ জনকে।

প্রতিবাদকারীদের একজন ওয়াই অং বলেন, আসিয়ানের বৈঠকে কী ফল আসবে, সেটা আমরা আগেই অনুমান করতে পেরেছি। এটা কখনো জনগণের অনকূলে হবে না। আমরা আমাদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ বন্ধ করব না। সামরিক শাসন পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।

মন্তব্য করুন