করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। দেশজুড়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে প্রতিদিনই রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আরও ৪ হাজার ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে এটিই দেশটিতে এখন সর্বোচ্চ। আর করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৪ লাখ ১ হাজার ১৮৮ জন। 

শনিবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভারতে সবমিলিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৬ জনে। আর মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ২৭০ জনে। দেশটিতে এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৬ জন। 

গত মার্চ মাসে দেশটিতে দৈনিক শনাক্ত রোগী ছিল ২০ হাজারের নিচে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে হু হু করে শনাক্ত বেড়েছে। বেড়েছে মৃত্যুও। শুধু এপ্রিলেই দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬৬ লাখ। 

শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। আর মৃত্যুর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রাজিলের পরই চতুর্থ স্থানে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল দেশটি।

ভারতজুড়ে করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালু থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা খাত অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অভাব দেখা দিয়েছে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় ওষুধেরও। অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যেই বহু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। কর্নাটকে সোমবার থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুতেও দুই সপ্তাহের লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মনিপুরে ১৭ মে পর্যন্ত লকডাউন জারি করা হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা এখন ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, তৃতীয় ঢেউ ঠেকানো যাবে না, বরং ভ্যাকসিন আরও উন্নত করতে হবে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর সারাবিশ্বে তা ছড়িয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন