কুমিল্লা নগরীতে মোবাইল কিনতে এসে অপহরণের শিকার দুই যুবককে ১১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপহরণকারী চক্রের এক নারীসহ তিন সদস্যকে। 

সোমবার ভোরে আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের শিকার হয়েছিলেন বরুড়া উপজেলার নাটেহর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে ও কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র জালাল হোসেন এবং তার চাচাতো ভাই মাসুদ রানা।

সোমবার দুপুরে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, জালাল ও মাসুদ মোবাইল ফোন কিনতে রোববার দুপুরে কুমিল্লা নগরীতে যান। কিন্তু তারা মোবাইল না কিনে টমছমব্রিজ থেকে সিএনজিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় কোটবাড়ি সড়কে পৌঁছলে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র তাদের সিএনজি থামায়। এরপর মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের সিএনজি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের উত্তর দুর্গাপুর এলাকায় চক্রের সদস্য রিনা আক্তারের ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। দু'জনের কাছে থাকা টাকা কেড়ে নেওয়ার পর স্বজনের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না পেলে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি মাসুদের ভাই কাইয়ুম হোসেন র‌্যাবকে জানায়। পরে রাত ১০টার দিকে অভিযান শুরু করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের মৃত নোয়াব মিয়ার মেয়ে রিনা আক্তার, শংকরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে শাহপরান এবং বুড়িচং উপজেলার এতবারপুর গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে শরীফ ইসলাম।

র‌্যাব কর্মকর্তা নাজমুছ সাকিব আরও জানান, সোমবার ভোরে অপহৃত দের উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি চাকু, ১৩ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাইয়ুম হোসেন বাদী হয়ে সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন।

বিষয় : অপহৃত দুই ভাই অপহরণকারী কুমিল্লা

মন্তব্য করুন