কুমিল্লায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে গাছের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ নোয়াগাঁও গ্রামের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার সোহাগ মিয়া (১৫) একই গ্রামের মুন্সী বাড়ীর আল-আমীনের ছেলে।

এ বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার পর পুলিশ একই গ্রামের হোসেন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ, মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে নোয়াগাঁও গ্রামে কামারচর মোড় এলাকায় হোসেনের ছেলে সজিবের দোকান থেকে একটি মোবাইল ও নগদ কিছু টাকা চুরি হয়। এ চুরির ঘটনায় একই গ্রামের আল-আমীনের ছেলে সোহাগ মোবাইল ও টাকা চুরি করেছে বলে সন্দেহ করা হয়।

ওইদিন একই গ্রামের আশিক, রুবেল ও কামালের নেতৃত্বে একদল যুবক সোহাগকে তার বাড়ি থেকে আটক করে মোকবল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গাছের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে দিনব্যাপী অমানুষিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়।

পরে একই এলাকার ধনু মিয়ার ছেলে নজরুলের কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করার পর র্নিযাতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এ নির্যাতনের ঘটনা কাউকে না বলতে এবং কিছুদিন গ্রাম ছাড়া থাকার হুমকি দিয়ে সোহাগকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সোহাগের বাবা আল-আমীন বলেন, ‘আমার ছেলে চুরি না করেও তাকে চোরের অপবাদ দিয়ে আশিক, রুবেল, মোকবল হোসেন, হোসেন মিয়া, আ. হান্নান, কামালসহ আরো অনেকে বেঁধে রেখে সারাদিন মারধর করেছে। আমি একজন প্রতিবন্ধি অসহায় লোক। ভিক্ষা করে সংসার চালাই। আমি নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে রোববার রাতে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘এ নির্যাতনের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় সোহাগের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। আমরা অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত হোসেন মিয়া নামের অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

বিষয় : কুমিল্লা

মন্তব্য করুন