ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের নিন্দা জানাচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের অধিকার 'সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করার' অভিযোগ তুলে গাজায় সামরিক আগ্রাসন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। রোববার ৫৭ দেশের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাত বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের যে প্রস্তাব বিদ্যমান তার ভিত্তিতে দু'পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতেও অনুরোধ করেন।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের লাগাতার বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। রোববার আঙ্কারার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভার্চুয়াল সভা করে সংস্থাটি। বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লু ফিলিস্তিনে আগ্রাসন চালানোর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব ধরনের প্রচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যাব।'

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করেছে চীন। দীর্ঘ কয়েক দশকজুড়ে চলা এই দ্বন্দ্ব নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। রোববার চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, 'ওই অঞ্চলে যে সংকট চলছে, দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে অনেক আগেই তা সমাধান করতে পারত নিরাপত্তা পরিষদ। দুঃখজনক হলেও সত্য, তা এখনও করা যায়নি, আর এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'চীন মনে করে, সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই নিরাপত্তা পরিষদের (এ বিষয়ে) উদ্যোগী হওয়া উচিত।'

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতা বন্ধ এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নেতাদের আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো ম্যাস। তিনি বলেন, 'এখন জরুরি হচ্ছে- ১. রকেট ছোড়া বন্ধ করা, ২. সহিংসতা বন্ধ, ৩. দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের আলোচনায় ফেরা।'

ইসরায়েল ও গাজার মধ্যকার সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, সম্প্রতি শিশুসহ বহু নিরাপদ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা 'ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য'।

তিনি আরও বলেন, 'মারণাস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে শান্তির পথে আসার জন্য এবং শান্ত থাকার জন্য সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমি।'

রোববার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনি গুতেরেস তাৎক্ষণিকভাবে এ সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সংঘর্ষকে 'ভয়াবহ ভীতিকর' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির জন্য প্রচেষ্টা দ্রুত ও সফল করতে সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে জাতিসংঘ।

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট সমাধানের জন্য আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। এ জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার জরুরি আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান জোটের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল। তিনি এক টুইটবার্তায় বলেন, আমরা সমন্বয় এবং আলোচনা করব কীভাবে চলমান সহিংসতা নিরসনে ইইউ সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারে।

এদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসনকে মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক পরিচালক সালেহ হিজাজি। তিনি বলেন, গাজার মানুষের ওপর এবং ওই অঞ্চলে কী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে গোপন করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে বিষয়টি তদন্ত করার আহ্বান জানাই। যেভাবে সেখানে ভবনে হামলা চালানো হচ্ছে, তা এক ধরনের যুদ্ধাপরাধ।

দেশে দেশে বিক্ষোভ: ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দেশে দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনের হামলার প্রতিবাদ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, বোস্টনসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।