ইসরায়েলে রেকর্ড সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পর বুধবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুগের অবসান হতে যাচ্ছে। দেশটির বিরোধী দল জোটগতভাবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে নেতানিয়াহুর বিদায়ও। রোববার মধ্যপন্থি নেতা ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন ইয়েস আতিদের সঙ্গে বৈঠকে দলটিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেন উগ্রপন্থি নেতা নাফতালি বেনেট।

তবে সম্ভাব্য এ জোট সরকার দেশের 'নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক' হবে বলে দাবি করেছেন নেতানিয়াহু। এখন রাজনৈতিক দল ইয়েস আতিদ সরকার গঠন করলে প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হবেন জোট নেতা বেনেট। এদিকে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিচারাধীন দুর্নীতির মামলায় তার সাজা হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর সিএনএন, এএফপি ও রয়টার্সের

বিবিসি বলছে, বেনেটের সঙ্গে নতুন জোট সরকার গঠনে মধ্যপন্থি নেতা ইয়ার লাপিদ বুধবার পর্যন্ত সময় পাবেন। এই উদ্যোগ সফল হলে পতন হবে নেতানিয়াহু যুগের। গত দু'বছরে চারটি নির্বাচন হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পায়নি কোনো দল। এতে শুধু মেয়াদ বেড়েছে নেতানিয়াহু সরকারের। এরই মধ্যে গত নির্বাচনে ছয়টি আসন নিয়ে জোট সরকার গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বেনেটের দল রোববার ইয়েস আতিদকে সমর্থন দেয়। তবে তাদের মধ্যে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ৪৯ বছর বয়সী বেনেট। দু'বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি। পরের দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন লাপিদ। বাস্তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিরোধীদের রাজনৈতিক মতাদর্শের খুব পার্থক্য না থাকলেও লিকুদ পার্টির এই নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তারা সবাই একমত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার রাতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বেনেট ও অন্যান্য দলের নেতাদের ক্ষমতা ভাগাভাগি করে তিন ধাপে প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সেই প্রস্তাব হালে পানি পায়নি। পরদিন নেতানিয়াহুকে উৎখাতে বিরোধীদের সঙ্গে করা বৈঠকে সমর্থন দেন বেনেট।\হখবরে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতা লাপিদ সরকার গঠনে সক্ষম একটি জোট গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। উগ্র-জাতীয়তাবাদী নেতা বেনেটের সঙ্গে চুক্তিও প্রায় করে ফেলেছেন। এরপরই নেতানিয়াহু বলেছেন, 'বামপন্থি কোনো সরকার গঠন করবেন না- এ ধরনের সরকার ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হবে।' তবে বামপন্থি সরকার ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের কী বিপদ হবে- এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। বৈঠকের পর নাফতালি বলেছেন, ইসরায়েলে গত দুই বছরের মধ্যে পঞ্চম দফা জাতীয় নির্বাচন এড়াতে ও 'ঘূর্ণিপাক থেকে দেশকে রক্ষা করতে' তিনি নেতানিয়াহুবিরোধী নতুন সরকারে যোগ দিচ্ছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশটির ডান, বাম ও মধ্যপন্থিরা এক জোট হওয়ার চেষ্টা করছেন। আশা করা হচ্ছে, ক্ষমতার অংশ না নিয়েও এই জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে ইসরায়েলের আরব দলগুলো, বিশেষ করে ইউনাইটেড আরব লিস্ট। তবে উগ্র ডানপন্থি নীতির কারণে ইসরায়েলের আরবরা নাফতালিকে পছন্দ না করায় এটি একটি 'ভঙ্গুর' জোট হতে পারে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

বিশ্নেষকরা বলছেন, সব মিলিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রিত্ব করা নেতানিয়াহুকে প্রথমে ইসরায়েলের রাজনীতিতে 'অপ্রতিরোধ্য' মনে করা হলেও এখন তাকে আর তেমনটি ভাবা হচ্ছে না। চার নির্বাচনে প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়া তার বড় প্রমাণ। তবুও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকার সব চেষ্টাই করেছেন। সম্প্রতি গাজায় চালানো নৃশংসতাকে তার ক্ষমতায় টিকা থাকার কৌশল হিসেবে মনে করছেন বিশ্নেষকরা।