স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘বায়োলজিক্যাল-ই’ এর কাছ থেকে ৩০ কোটি অননুমোদিত টিকা কিনছে ভারত সরকার। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার অগ্রিমও দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে রয়েছে দেশটি। দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে ভারত সরকার এখন মরিয়া প্রায়। এখন পর্যন্ত ভারতের মোট ৯৫ কোটি প্রাপ্তবয়স্কের মাত্র ৪.৭ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন। শুধু এপ্রিল ও মে মাসেই দেশটিতে করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ। খবর রয়টার্সের।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, টিকাটি এখনও ফেজ ৩ ক্লিনিকাল পরীক্ষা ধাপে রয়েছে। ‘বায়োলজিক্যাল-ই এর সঙ্গে তাদের চুক্তিটি ভারত সরকারের বড় প্রচেষ্টার অংশ যা দেশীয় টিকা উৎপাদকদের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং আর্থিক সহায়তেও সমর্থন দিয়ে উৎসাহিত করবে।

ভারত বর্তমানে সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ার তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে নিজ জনসাধারণকে, পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন-ও দেওয়া হচ্ছে। মধ্য জুনেই আবার বাণিজ্যিকভাবে চলে আসার কথা রয়েছে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ৫’ টিকাটিরও।

কিন্তু গত মাসে সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পর যোগান নিয়ে বিপাকে পড়ে ভারত। অনেক টিকাদান কেন্দ্রও বন্ধ হয়ে যায়। গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনার মুখেও পড়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৪ জনের নতুন সংক্রমণের খবর জানিয়েছে ভারত। মে মাসের ৭ তারিখের তুলনায় সংক্রমণ কমেছে ৬৫ শতাংশ, ওই দিনটিতে ৪ লাখ ১৪ হাজার ১৮৮ জনের সংক্রমণের খবর এসেছিল। 

রয়টার্স বলছে, করোনাভাইরাসে একদিনে ২,৮৮৭ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে ভারত। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৯-তে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ।