অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন পাকিস্তানের সংসদ সদস্য সৈয়দা মাইমানাত মহসিনের ওরফে যুগনু মহসিনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলার দ্রুত ও স্বতন্ত্র তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো পাঞ্জাব বিধানসভার সদস্য  যুগনু মহসিন ওপর এই হামলার খবর দেয়। খবরে বলা হয়, ওকারাতে তার গাড়ির ওপর অজ্ঞাত পরিচয় কিছু ব্যক্তি গুলি চালায়। তবে তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান। খবর এএনআইয়ের। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া শাখা দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেছে, দায়ীদের বিচারের জন্য অবিলম্বে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র তদন্ত নিশ্চিত করা উচিত।

হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের ডিজিটাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ভয়েসপেক ডটনেট জানিয়েছে, ছয়জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে হুজরা শাহ মুকিম থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অন্যরা এখনও পলাতক রয়েছে। পাঞ্জাব বিধানসভায় জুগনু মহসিনের একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার কয়েকদিন পর তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই প্রস্তাবে তিনি দেশে সাংবাদিক এবং অধিকার কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন।

এক সমাবেশে জুগনু মহসিন বলেছিলেন, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের ওপর এখানে যা ঘটছে, তা নতুন কিছু নয়। আমরা যেটুকু স্বল্প স্বাধীনতা ভোগ করি, তার জন্য আমরা দীর্ঘ এবং কঠোর লড়াই করেছি।

তিনি তার সহকর্মী আবছার আলম ও আসাদ আলী তুরের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং জনপ্রিয় নিউজ অ্যাঙ্কর হামিদ মীরের শো নিষিদ্ধ করারও সমালোচনা করেন।

এদিকে পাকিস্তানকে সাংবাদিকতার জন্য পঞ্চম বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন (আইএফজে)। পাকিস্তানে ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১৩৮ জন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন।

মন্তব্য করুন