নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলা নিয়ে তৈরি ছবিটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। শুরু হয়েছে বিতর্ক ও নিন্দার ঝড়। মুসলমান সম্প্রদায়ের সদস্য ও নেতারা এটিকে শ্বেতাঙ্গদের মহিমা কীর্তন ও তাদের ‘ত্রাণকর্তা হিসেবে তুলে ধরার দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জুমার নামাজের সময় ওই হামলায় ৫১ জন মুসল্লি প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হন ৪০ জন। খবর আল জাজিরার।

‘দে আর আজ’ নামের ওই চলচ্চিত্রে ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেনের সফল হস্তক্ষেপ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।

ক্রাইস্টচার্চের নূর মসজিদে ওই হামলার পর শ্বেতাঙ্গ ওই হামলাকারী লিনউডের আরেকটি মসজিদে হামলা চালিয়ে আরো সাতজনকে হত্যা করে উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ যুবক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট।

দ্য ন্যাশনাল ইসলামিক ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ‘যারা হত্যার শিকার এবং যারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন, তাদের বিষয়টা গৌণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সবার সামনে আনা হয়েছে একজন শ্বেতাঙ্গ নারীর তৎপরতাকে।’ 

ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন এর প্রতিবাদে গণস্বাক্ষরের আয়োজন করেছে। ৬০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ তারা ছবিটির নির্মাণ বন্ধ রাখার আবেদনও জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ছবিতে মুসলমান সম্প্রদায়কে সঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। নিউজিল্যান্ডের একজন লেখক অ্যান্ড্রু নিকল ছবিটির চিত্রনাট্যকার।

অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি হারিস মুর্তজা বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছিল, সেটা একটা অমানবিক ঘটনা। সেটাকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে লাভের আশা করা উচিত নয়।’

মুসলমান কবি মোহাম্মদ হাসান বলেছেন, ‘যে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো এই হামলার শিকার হয়েছিল, তাদের কথাই বিশদভাবে বলা উচিত। তাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ভাল ভাল কথা শুনিয়ে লাভ নেই।’

নিজের টুইটারে তিনি বলেন, ‘ওই হামলা এবং হামলার শিকারদের কোনো কথা ছবিতে নেই। বরং কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং শ্বেতাঙ্গ মানুষদের প্রতিক্রিয়াই এতে তুলে ধরা হয়েছে।’

এদিকে বিতর্কের জেরে ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রযোজক ফিলিপ্পা ক্যাম্পবেল।