সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যায় অংশ নেওয়া চারজন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদনেই তারা সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে প্রশিক্ষণ নেয়। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগিকে হত্যার এক বছর আগে চার সৌদি এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আরাকানসাসভিত্তিক সিকিউরিটি কোম্পানি 'টায়ার ১ গ্রুপ'। এই কোম্পানির মালিক বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা গ্রুপ সারবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। 'টায়ার ১ গ্রুপের' মালিক সারবেরাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুইস বারমার ওই প্রশিক্ষণে তাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পেন্টাগনের একটি শীর্ষ পদে মনোনয়নের সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের কাছে এ তথ্য জানান তিনি।  খবর এএফপি ও আলজাজিরার।

লুইস বারমারের বিবরণ অনুযায়ী, খাসোগির ঘাতক দলের চার সদস্য ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টায়ার ১ গ্রুপে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অবশ্য চারজনের মধ্যে দু'জন ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পূর্ববর্তী একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে পারবে না বলে জানায় এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন ২০১৪ সালে প্রথম সৌদির এজেন্টদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি অনুমোদন দেয়। পরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের শুরুর দিক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ছিলেন খাসোগি। একসময় সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তার। তবে পরে কট্টর সমালোচক বনে যান। বিশেষ করে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের কট্টর সমালোচনা করছিলেন তিনি। 

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে বিয়ের জন্য কাগজপত্র আনতে যান খাসোগি। সেখানেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সৌদি আরব প্রথমে খাসোগি খুন হওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে। পরে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। খাসোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শুরু থেকেই আঙুল ছিল যুবরাজ সালমানের দিকে।