যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র গরমে শতাধিক মানুষ মারা গেছেন।

সাম্প্রতিককালের রেকর্ড তাপমাত্রায় মৃতদের মধ্যে অসুস্থ ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার কানাডার আবহাওয়া অধিদপ্তর ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের লিটন গ্রামে ৪৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে, যা কানাডার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।

তীব্র দাবদাহে ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে অন্তত ১০০ জন মারা গেছেন বলে বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন প্রধান শব পরীক্ষক লিসা লাপোয়েন্ট।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বিভাগ বলছে, গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন প্রদেশের পোর্টল্যান্ডে ৪৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

সিয়াটল নিউজ জানিয়েছে, প্রচণ্ড দাবদাহে ওয়াশিংটন ও ওরেগন প্রদেশে অন্তত ১২ জন মারা গেছেন।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কানাডার পশ্চিমাঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চল থেকে উত্তর মেরুতে প্রসারিত স্থির উচ্চ-চাপযুক্ত গরম বাতাসের কারণে এই প্রচণ্ড দাবদাহে অনুভূত হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কানাডার আবহাওয়া অধিদপ্তর ব্রিটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা প্রদেশের পাশাপাশি সাসকাচোয়ান, উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল এবং ম্যানিটোবা অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে।
কানাডার আবহাওয়া বিভাগ বলছে, গত রোববারের আগে কানাডার তাপমাত্রা কখনও ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছাড়েনি।

ভ্যাংকুবারে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জরুরি সেবা দিতে কলসেন্টারগুলোকেও সার্বক্ষণিকসচল রাখার নির্দেশনা এসেছে।

ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন হরগ্যান বলেছেন, এই উষ্ণতম সপ্তাহটি তার প্রদেশের বাসিন্দাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

কানাডার এই প্রদেশটিতে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা মৃদু থাকে বলে অনেক বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। শীতলতার খোঁজে ভ্যাংকুবারবাসী ভিড় করেছেন স্থানীয় হোটেলগুলোতে। এএফপি নিউজ এজেন্সির এক ছবিতে দেখা গেছে, ভ্যাংকুবারের বেশকজন বাসিন্দা শহরের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে শুয়ে আছেন।

ভ্যাংকুবারের বাসিন্দা মেঘান ফান্ডরিচ রয়টার্সকে বলেছেন, তীব্র গরমে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড আর ৪৭ ডিগ্রি একেবারেই আলাদা। এটা অসহনীয়। আমরা যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করছি।

ওয়াশিংটনের সিয়াটলের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক জেরেমি হেস সিয়াটল টাইমসকে বলেছেন, করোনাভাইরাস শুরুর সময়ে যত না রোগী এসেছেন তাদের হাসপাতালে, তার চেয়ে বেশি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী এখন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

তিনি বলেন, রোগীদের মধ্যে কারও কারও কিডনি ও হার্টের সমস্যা ছিল। সড়কে হেঁটে যাওয়া একজনে ‘থার্ড ডিগ্রি বার্ন’ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, সিয়াটলের বেশ কজন বাসিন্দা স্ব উদ্যোগে পানীয় ও স্ন্যাকস দিচ্ছেন পথচারীদের। কৃত্রিম ছায়ার ব্যবস্থা করে পথচারীদের ক্ষণিকের শীতল করছেন তারা।
সিয়াটলের প্রধান কার্যালয়টি অ্যামাজন নাগরিকদের জন্য ‘কুলিং অফ’ সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বার্ষিক দাবানলের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পশ্চিম আমেরিকার রাজ্যগুলোর গভর্নর এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবদাহের মতো এমন ঘটনা আরও ঘটবে।