ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় বাংলাদেশসহ চারটি দেশের অন্তত ৪৩ জন মারা গেছেন। লিবিয়া থেকে সাগর পথে ইতালি যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নৌকাটিতে থাকা আরও ৮৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জারজিসে নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

এই দুর্ঘটনা থেকে উদ্ধার ৮৪ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, সুদান, মিসর, ইরিত্রিয়া ও চাদের নাগরিক রয়েছেন। গত ২৮ ও ২৯ জুন লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি পৌঁছাতে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধাররা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে ২০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশী আফ্রিকা থেকে ইউরোপের উদ্দেশে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকা ও জাহাজডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছেন কমপক্ষে ৮৬৬ জন। গত এপ্রিলে তিউনিসিয়া উপকুলে নৌকা ডুবে মারা গেছেন ৪০ জেনের বেশি মানুষ। এর আগের মাসে মারা গেছেন ৩৯ জন। গত বছরের জুন মাসে নৌকা ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ জন।

এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে ইউরোপে আশ্রয়প্রত্যাশীদের মানবপাচারকারীরা রাবার ডিঙ্গা, কাঠের নৌকা ও জেলে নৌকায় তুলে দেয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ বহন করতে গিয়ে এসব নৌকা ভূমধ্য সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে ভেঙে যায় অথবা ডুবে যায়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ দেশে গৃহযুদ্ধের শিকার হয়ে এবং অনেকে দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্তি পেতে এই বিপজ্জনক যাত্রায় শরিক হন।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব থেকে জানা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮০০ জন ইতালি পৌঁছেছে। গত বছর এ সময়ের মধ্যে ইতালিতে পৌঁছতে পারা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭০০।