রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপদ্বীপের নিকটবর্তী ওখটস্ক সাগরে ২৯ আরোহীসহ একটি এন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আন্তনোভ কোম্পানির তৈরি এএন-২৬ মডেলের দুই ইঞ্জিনের টার্বোপ্রোপ বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে, রাশিয়ার জরুরি বিভাগ তা খুঁজে পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা আরআইএ। দেশটির জরুরি বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

রাশিয়ার জরুরি বিভাগের উদ্বৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওখটস্ক সাগরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিধ্বস্ত হওয়া এন-২৬ বিমানের কেউ বেঁচে নেই। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ধ্বংসাবশেষটি বিমানবন্দরের ৫ মাইল দূরে তারা খুঁজে পেয়েছেন।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটি কামচাটকার প্রধান শহর পেদ্রাপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি থেকে উপদ্বীপের পালানা শহরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। নির্ধারিত সময়ে অবতরণ না করার জানা যায় বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।

রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, বৈরী আবহাওয়া আর আলোক স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ে অবতরণ না করার পর বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় একটি এভিয়েশন কোম্পানি বিমানটির চলাচল পরিচালনা করে আসছিল।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার আর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেখানে একটি দল পাঠানোর পর বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে সেই স্থানটি খুঁজে পাওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রাশিয়ার আরেক সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটিতে মোট ২৯ আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। বিমানটিতে অন্যদের সঙ্গে পালানার মেয়র ওলগা মোখিরেভাও ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। পালানার আবহাওয়ার জেরে নাকি অন্য কোনো কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার সংবাদ সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, বিমানটি যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন কামচাটকা উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। এদিকে তাস জানায়, ১৯৮২ সাল থেকে এই বিমানটি ওই কোম্পানির বহরে যুক্ত হয়ে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল। ওই সংস্থার পরিচালক আলেপি জানিয়েছেন, বিমানটি প্রযুক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ছিল।

রাশিয়ার বিমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে এর আগে দেশটিতে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সম্প্রতি সেই ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছে মস্কো। এর ফলে বিমান দুর্ঘটনা অনেক কমে আসে। শেষবার ২০১৯ সালে বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে দেশটিতে।