সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলেন আইজ্যাক। তারপর গরিব পরিবারে যা হয় তার জীবনও সে পথেই যাচ্ছিল। স্কুলছুট এবং তার পর উপার্জনের জন্য দিনমজুরি করা। সারা দিন কাজ আর কাজ শেষে বাড়ি ফেরা। এর বাইরে নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবার অবকাশ তার ছিল না। পরে ২০২০ সালে দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিলে কাজ চলে যায় ভারতের ওড়িশার সম্বলপুর জেলার বাবুপালির আইজ্যাকের। তার পর দীর্ঘ সময় বাড়িতেই বেকার হয়ে বসেছিলেন। কখনও কোনও কাজের ডাক পেলে যেতেন।

এ রকমই এক দিন এক বন্ধুর ফোনে তিনি ইউটিউব-এ ব্লগিং করতে দেখেন। বিষয়টি তার বেশ ভাল লাগে। হাজার তিনেক টাকা ধার করে একটি স্মার্টফোন কিনে বন্ধুর সাহায্যে তিনি নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ফেলেন।

পরিবার নিয়ে কাঁঠাল খাচ্ছেন আইজ্যাক

মাটির বাড়ি। থালার এক পাশে পড়ে থাকা ভাত অত্যন্ত কম পরিমাণ সব্জি দিয়ে মেখে খাওয়া তো কখনও তালপাতা দিয়ে মাদুর বানানো। দৈনন্দিন জীবন তিনি তুলে ধরতে শুরু করলেন ইউটিউবে। তার আপলোড করা প্রথম ভিডিও ছিল ভাত খাওয়া নিয়ে। স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে মেঝেতে বসে একসঙ্গে খাচ্ছিলেন তিনি। সেই ভিডিও আপলোড করার তিন মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ মানুষ দেখেন। শুধু ওই একটি ভিডিও থেকেই ৩৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এর পর একে একে আরও ভিডিও করতে শুরু করেন আইজ্যাক। ৩৫ বছরের দিনমজুর আইজ্যাক এখন পেশাদার ইউটিউবার। তার চ্যানেলের নাম ‘আইজ্যাক মুণ্ডা ইটিং’। তার গ্রামের সংস্কৃতি, জীবনযাপন উঠে আসে আইজ্যাকের ভিডিওতে। তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা সাত লাখ ৫২ হাজার ছুঁয়েছে।

এর আগে স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে নিয়ে দিনমজুরি করে কোনওক্রমে দিন কাটাতেন আইজ্যাক। নামমাত্র উপার্জনে বেশির ভাগ দিন শুধু ভাত খেয়েই কাটাতে হত তাদের। এখন ইউটিউবার হয়ে ভাগ্য পাল্টে গেছে আইজ্যাকের।