নিজ বাসভবনে বিদেশি ভাড়াটে খুনিদের গুলিতে হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িস নিহত হওয়ার সময় আহত হন তার স্ত্রী ও সদ্য সাবেক ফার্স্ট লেডি মার্টিন ময়িস। ওই বর্বর হামলার তিন দিন পর গত শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মার্টিন নাগরিকদের উদ্দেশে টুইটারে ভয়েস মেসেজে পোস্ট করেছেন। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে প্রেসিডেন্টকে হত্যার ভয়ংকর সেই সময়ের ঘটনাবলি। মার্টিন বলেছেন, 'খুনিদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় ময়িসের পুরো শরীর।'

গত বুধবার বন্দুকধারীরা প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের বাসভবনে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। গত শনিবার মার্টিন ময়িস তার টুইটার পেজে ওই 'ভয়েস মেসেজ' পোস্ট করেন। এই বার্তা যে মার্টিন ময়িসের, তা একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির।

বার্তায় তিনি বলেন, মধ্যরাতে চোখের পলকে ভাড়াটে হত্যাকারীরা তাদের বাড়িতে ঢোকে। তারা গুলি করে তার স্বামীকে ঝাঁজরা করে দেয়।মার্টিন ময়িস বলেন, এ হামলা এত দ্রুত ঘটে যে, তার স্বামী জোভেনেল ময়িস একটি কথা পর্যন্ত বলার সুযোগ পাননি। তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক কারণে তার স্বামীকে নিশানা করা হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কারণে।

মার্টিন ময়িস বলেন, অজ্ঞাত হত্যাকারীরা বলেছিল, তারা প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের স্বপ্ন শেষ করে দিতে চায়। হাইতির সদ্য সাবেক এই ফার্স্ট লেডি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না। তার কাজ এগিয়ে নিতে, অব্যাহত রাখতে অঙ্গীকার করছি।

জোভেনেল ময়িস হত্যাকাণ্ডে ২৮ জন ভাড়াটে ব্যক্তির সংশ্নিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইতির পুলিশ। তাদের মধ্যে ২৬ জন কলম্বিয়ার। আর দু'জন হাইতি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

হাইতির পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক দলের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজন পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। আটজন পলাতক রয়েছে। অবশ্য জোভেনেল ময়িসের হত্যার নির্দেশদাতা কে এবং কী উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। নিরাপত্তার পাশাপাশি তদন্তসংক্রান্ত কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে হাইতি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, হত্যার তদন্তে এফবিআইর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ সংশ্নিষ্টদের শিগগির হাইতিতে পাঠানো হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হাইতিতে কোনো সেনা পাঠাবে না।

এদিকে জাতিসংঘের কাছেও সেনাসহায়তা চেয়েছে হাইতি। বিষয়টি পর্যালোচনা করছে তারা।

জোভেনেল ময়িস ২০১৭ সাল থেকে হাইতির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পদত্যাগ দাবি করে দেশটিতে একাধিকবার বিক্ষোভ হয়। ময়িস নিহত হওয়ায় অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্লদে জোসেফ।

বিষয় : হাইতির প্রেসিডেন্ট হত্যা হাইতি জোভেনেল ময়িস

মন্তব্য করুন