ইংল্যান্ডের হয়ে টাইব্রেকারে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কাস রাশফোর্ড, জ্যাডোন সাঞ্চো ও বুকায়ো সাকা। এই তিনজনকে নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বর্ণবাদী ট্রল। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন। তদন্ত শুরু করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বাংলাদেশ সময় রোববার মধ্যরাতে ইউরোর ফাইনাল ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি নিতেই মাঠে নামানো হয়েছিল রাশফোর্ড ও সাঞ্চোকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ইতালি গোলরক্ষক দোন্নারুমা ঠেকিয়ে দেন সাঞ্চোর শট। শেষ শটে গোল হলে সমতায় থাকত ইংল্যান্ড। সাকার শটও বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন দোনারুম্মা। আর গোলপোস্টের বাইরে বল পাঠিয়ে দেন রাশফোর্ড। এতে ট্রাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ইংল্যান্ডের, ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি।

এরপর বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে তাদের নিয়ে বর্ণবাদী ট্রল শুরু করে ইংল্যান্ডের উগ্র সমর্থকরা। তাদের গায়ের রঙ উল্লেখ করে ট্রল করতে থাকেন অনেকে।

এমন পরিস্থিতিতে  ইংল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন থেকে বিবৃতি আসে। এতে বলা হয়, ‘এই গ্রীষ্মে আমাদের স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডের জার্সির জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ নিংড়ে দিয়েছে। অথচ আজ রাতের খেলা শেষে তারাই বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের পাশে আছি।’

দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) আলাদা এক বিবৃতিতে বর্ণবাদী আচরণের চরম নিন্দা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘বৈষম্যমূলক এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দলের কিছু খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক কথা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই আচরণ যারা করে তারা আমাদের দলের ভক্ত হতে পারে না।’

উল্লেখ্য, ইংলিশ ফুটবলার রাশফোর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজ বংশোদ্ভুত। জ্যাডোন সাঞ্চোর পূর্বপুরুষ ইংল্যান্ডে গেছে ত্রিনিদাদ টোবাগো থেকে। আর বুকায়ো সাকার পূর্বপুরুষ দেশটিতে গিয়ে স্থায়ী হয়েছে নাইজেরিয়া থেকে।

এবারের ইউরোর পুরো টুর্নামেন্টে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সরব ছিল ইংল্যান্ড স্কোয়াড। খেলার আগে এ ব্যাপারে হাঁটু গেড়ে নিজেদের অবস্থান জানায় তারা।