নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় মোতালেব মনোয়ারা নীটওয়্যার গার্মেন্টের চতুর্থ তলার ফ্লোরে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সোমবার সকালে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় বিকট শব্দ হলে আতঙ্কে কর্মরত শ্রমিকরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন। হুড়োহুড়ি করে তারা কারখানার বাইরে বেরিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও গণপূর্তের প্রকৌশলীরা পোশাক কারখানায় এসে পৌঁছান। তল্লাশি শেষে তারা কারখানার চারতলার ফ্লোরে দীর্ঘ ফাটল খুঁজে পান। 

পরে গণপূর্ত নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী এবিএম খোরশেদ আলম ওই ভবনে সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ৬ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এভবনেই আবার নির্মাণ কাজ চলছে। গত রোববার সন্ধ্যায় গার্মেন্টের একটি দেয়াল ধসে পড়ে। 

শ্রমিকদের একজন সমকালকে বলেন, ‘হঠাৎ পুরো ভবন শক্তিশালী ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠে। মনে হয়েছিল ভবনটি হেলে পড়ছে। তখন আমরা ভয়ে দ্রুত গার্মেন্টস থেকে বেরিয়ে যাই। অনেকে আতঙ্কে কান্নাকাটি করতে থাকে।’ 

ঘটনা সম্পর্কে জানতে কারখানার জিএম সাইফুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এমএ শাহীন জানান, মোতালেব-মনোয়ারা গার্মেন্টের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ওই ভবনে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করে। গত রোববার সন্ধ্যায়ও ভবনটি কেঁপে উঠেছিল। তখনও শ্রমিকরা আতংকিত হয়ে মালিকপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিল গার্মেন্টের কাজ বন্ধ রাখার। কিন্তু মালিক পক্ষ শ্রমিকদের কোন কথা শুনেনি। ফের দ্বিতীয় দফায় ভবনটি আজ প্রচন্ড জোরে কেঁপে উঠে। শ্রমিকরা জানিয়েছে, ভবনটি ঝুঁকি মুক্ত করা না হলে কেউ কাজে যোগ দিবে না।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, শ্রমিকদের শান্ত করা হয়েছে। কারখানা ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা যার যার মতো বাড়ি ফিরে গিয়েছে। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কারখানাটি ঝুকিপূর্ণ। 

গণপূর্ত নারায়ণগঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, ‘মোতালেব-মনোয়ারা নীটওয়্যারে পাশাপাশি ৫ তলা এবং ৬ তলা দুটি বিল্ডিং অবস্থিত। তন্মধ্যে ৬ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর নিচতলায় সংস্কার কাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণ কাজ করার সময় নির্মাণ শ্রমিকরা হয়ত কোনো দেয়ালে অথবা পিলারে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। এতে ভবনটি কেঁপে উঠেছে। আর এ কারণেই চার তলার ফ্লোরে কিছু অংশে ফাটল ধরেছে ‘

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে দেখব কী পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভবন তৈরির কোনো অনুমোদন আছে কি না। আপাতত ঝুঁকিপূর্ন হিসেবে সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ৬ তলা ভবনে গার্মেন্টের সকল প্রকার কাজকর্ম নিষেধ করা হয়েছে।’