আফগানিস্তানজুড়ে তালেবান ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে যে সংকট চলমান রয়েছে সেটির রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। 

রোববার এক বিবৃতিতে এই মত দিয়েছেন তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কট্টর ইসলামী গোষ্ঠীটির এই সর্বোচ্চ নেতা এমন এক সময়ে রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন, যখন তালেবান ও আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা কাতারের দোহায় শান্তি আলোচনার নতুন পর্ব শুরু করেছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তালেবান নেতা আখুন্দজাদা বলেন, সামরিক জয় ও অগ্রগতির পরও ইসলামিক আমিরাত দেশে একটি রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী। দেশে ইসলামিক ব্যবস্থা, শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে যে কোনো সুযোগ ইসলামী আমিরাতের কাজে লাগানো হবে।

এদিকে আফগানিস্তানে একটি সমঝোতামূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টায় কয়েক মাস ধরেই তালেবান ও সরকারি পক্ষ কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠক করছে। কয়েক মাসের বৈঠকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর গত কয়েক দিনে তালেবান দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিয়েছে। এ কারণেও কিছুটা গুরুত্ব হারায় এই আলোচনা। গতকাল রোববার আবার উভয় পক্ষ আলোচনায় বসেছে। আখুন্দজাদার বিবৃতির পর দীর্ঘদিন ধরে স্তিমিত হয়ে থাকা শান্তি আলোচনা এবার গতি পেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে শান্তি আলোচনায় বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে সময় অপচয়ের অভিযোগ এনেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, আমাদের আগের বার্তাই এখনও বহাল। আমরা যুদ্ধ অবসানে একটি সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদেশিদের ওপর নির্ভর করার বদলে আসুন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করি এবং বিরাজমান সংকট থেকে মাতৃভূমিকে উদ্ধার করি।

হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বিবৃতিতে ঈদের ছুটিতে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্ত্রবিরতির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা দখলে নিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করে তালেবান। যদিও তাদের এ দাবি নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি। আফগান সরকারও এ দাবি প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিছু অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ৪০০ জেলার এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন তালেবানের দখলে রয়েছে।