ইউনেসকোর ভোটাভুটিতে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা হারালো ঐতিহাসিক বন্দর নগরী যুক্তরাজ্যের লিভারপুল মেরিটাইম মার্কেন্টাইল সিটি। বুধবার জাতিসংঘের শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতিবিষয়ক এই সংস্থা ভোটাভুটি শেষে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে শহরটির নাম বাদ দেয়। চীনে ইউনেসকো কমিটির এ গোপন ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। খবর: বিবিসির। 

ইউনেসকোর কমিটি বলছে,মাত্রাতিরিক্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সুউচ্চ ভবন নির্মাণ ও মেগা প্রকল্পের কারণে লিভারপুলের ক্ষতির হয়েছে। বিশেষ করে  নদী অববাহিকার জন্য বেশি ক্ষতি হয়েছে। লিভারপুলের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে সমর্থন জানিয়েছে ইউনেসকোর ১৩ সদস্য। এদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫ সদস্য।

এ বিষয়ে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির চেয়ারম্যান তিয়ান জুয়েজুন বলেছেন, লিভারপুল মেরিটাইম মার্কেন্টাইল সিটির নাম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়েছে। এর আগে ওমান ও জার্মানির দুটি জায়গাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

৬টি এলাকা নিয়ে লিভারপুল মেরিটাইম মার্কেন্টাইল সিটিকে ২০০৪ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেসকো। 

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা হারানোর পর লিভারপুলের মেয়র জোয়ানি অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল আবেদন করবেন তারা। 

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউনেসকোর ভোটাভুটিতে এই নগরীর নাম বাদ দেওয়ায় সরকার হতাশ। 

প্রসঙ্গত, লিভারপুল মারর্সি মোহনার পূর্বাঞ্চলীয় মারর্সিসাইড, ইংল্যান্ড, যুক্তরাজ্যের একটি শহর। ঐতিহাসিকভাবে লিভারপুল ল্যাঙ্কাশায়ারের একটি অংশ ছিল। প্রধান বন্দর হিসেবে শহরের অবস্থা দ্বারা মূলত এর নগরায়ন এবং সম্প্রসারণ সংঘটিত ​​হয়। ১৮ শতক থেকে আটলান্টিক দাস ব্যবসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগগুলোর সঙ্গে মিলিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড এবং মূল ভূখণ্ড ইউরোপ থেকে বাণিজ্য, লিভারপুলের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ঘটায়। লিভারপুল ছিল সমুদ্রে মাছ ধরার নৌকার নিবন্ধিত বন্দর। লিভারপুলের অধিবাসীদের লিভারপুডলিয়ান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কথ্য ভাষায় তারা ‘স্কোসার’ নামে পরিচিত।