পেগাসাস ইস্যুতে ভারত সরকারকে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করলেন, তার ফোনেও আড়ি পাতা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছে গেছে, কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম, এনসিপি শরদ পাওয়ারের মতো নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলারও জো নেই। সেইসঙ্গে নিজের ফোন দেখিয়ে মমতা জানান, তার ফোনের ক্যামেরা ‘প্লাস্টার’ করে দিয়েছেন।

বুধবার মমতা বলেন, ‘আমি চিদম্বরমের সঙ্গেও কথা বলতে পারব না। কারণ আমার ফোন ট্যাপ করা হবে। আমার ইচ্ছে করলেও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলতে পারব না। আমি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না।’ খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

মমতা অভিযোগ করেন, গরিব মানুষের হাতে টাকা দেওয়ার পরিবর্তে ‘স্পাইগিরির’ জন্য কোটি কোটি রুপি খরচ করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। শুধু ‘স্পাইগিরি’ করা হচ্ছে, বিজেপি ‘বিটিং (মারধর করছে)’, ‘কিলিং’ (খুন করছে) এবং ‘টকিং টু মাচ অ্যান্ড ডুয়িং নাথিং’-ও (কাজ না করে বেশি কথা বলছে) করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘মনে রাখবেন, পেগাসাসের নাম করে আপনার আমার সবার ফোন ট্যাপ করেছে। আমি কখন বাড়িতে ঘুমাচ্ছি, সেটাও দেখা যাবে। আপনি কী খাচ্ছেন, সেটাও দেখা যাবে। আপনার ব্রেনটাও স্ক্যান করে নিচ্ছে।’

রোববার ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’-সহ ১৭টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল। ‘দ্য ওয়ার’-এর প্রতিবেদনে সোমবার দাবি করা হয়েছে, মমতার ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছিল। সম্ভাব্য তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল।

মমতার অভিযোগ, তার ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছে। কীভাবে, সেই ব্যাখ্যাও দেন তিনি। দাবি করেন, অভিষেক এবং পিকের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। ফলে তার কথায় আড়ি পাতা হচ্ছে। তারপর নিজের ‘প্লাস্টার’ করা ফোন তুলে ধরে মমতা বলেন, পেগাসাস নিয়ে ভাবতে পারেন? আমি একটা কাজ করেছি। আমি আপনাদের দেখাচ্ছি। দেখুন, ফোনের ক্যামেরা আমি পুরো প্লাস্টার করে দিয়েছি। সঙ্গে যোগ করে বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই পুরো ‘প্লাস্টার’ করে দিতে হবে। না হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

যদিও পেগাসাস হ্যাকের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দুই শীর্ষ মন্ত্রী। পুরো বিতর্কের সঙ্গে কেন্দ্র বা বিজেপির নাম জড়ানোর জন্য ছিঁটেফোটা প্রমাণও নেই বলে দাবি করেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার ওই প্রতিবেদনগুলোকে ‘মাছ ধরার অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সঙ্গে জানায়, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর সরকারি নজরদারি চলছে, সেই দাবির সপক্ষে কোনো মজবুত ভিত্তি বা সত্যতা নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে বলা হয়, মৌলিক অধিকার হিসেবে বাক-স্বাধীনতার প্রতিজ্ঞা হল ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। আমরা সবসময় খোলামেলা কথোপকথনের সংস্কৃতিতে জোর দিয়ে একটি অবগত নাগরিক সমাজের পক্ষে থেকেছি।

বিষয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেগাসাস

মন্তব্য করুন