চীনের মধ্যাঞ্চলের হেনান প্রদেশে ভারী বর্ষণ থেকে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় কয়েক মিলিয়ন বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে ২২টি শহর। আর পানির নিচে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে ১২টি শহর।

ক্ষতিগ্রস্ত ঝিনঝু শহর কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৫ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর বন্যার ফলে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

এদিকে চীনের স্থানীয় সময় শুক্রবার পর্যন্ত ৬৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির আবহাওয়াবিদদের মতে গত এক হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

এছাড়াও দুটি বাঁধ ভাঙার খবর মিলেছে। যার মধ্যে একটি ইয়েলো নদীর ওপর। হোয়াংহো নদীর ওপরের বাঁধও ভেঙেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বন্যার পানি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ঘটনার পরেই রাস্তায় নেমেছে চীনের সেনা। বন্যাবিধ্বস্তদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে তারা।

বন্যার ভয়াবহতায় হেনান প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। সাবওয়েগুলিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একেকটি সাবওয়ের ভিতর কোমর সমান পানি। বাড়িঘরেও পানি ঢুকে গেছে। বন্ধ রয়েছে বাস ও অন্যান্য যান চলাচল।

চীনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলায় হেনান শহরে নদীগুলোর তীরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শহরে নদীর পানি প্রবেশ ঠেকাতে তীরে বালুর বস্তা দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করছে তারা।

চীনে বর্ষাকালে প্রায় প্রতিবছরই বন্যার দেখা দিলেও বিগত কয়েক দশক ধরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটিতে নদীর তীরে ব্যাপক হারে বাঁধ নির্মাণই এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।