আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের উত্থান ঠেকাতে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের ৩১টিতে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। শনিবার এই কড়াকড়ি বিধিনিষেধ আরোপ করে কাবুল সরকার। 

বিদেশি সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে একের পর এক এলাকা দখলে নিচ্ছে কট্টরপন্থিরা। গত আড়াই মাসে তালেবান দেশটির বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাদের রুখতে সর্বশেষ রণকৌশল হিসেবে কারফিউ জারি করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান লড়াইয়ের জেরে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সীমান্তরক্ষীদের সরিয়ে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে পাকিস্তান। গতকাল এ তথ্য জানায় ইসলামাবাদ। খবর এএফপি ও ডনের।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'সহিংসতা রুখতে এবং তালেবানের তৎপরতা সীমিত করতে সারাদেশের ৩১টি প্রদেশে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।' কেবল কাবুল, পাঞ্জশির ও নাঙ্গারহরকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।;

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আহমদ জিয়া জিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, 'কারফিউ রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।'

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে লাগাতার হামলা শুরু করেছে তালেবান। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশটি থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এরই মধ্যে দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি কট্টরপন্থিদের। 

বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ তালেবানের দখলে গেছে। অধিকাংশ অঞ্চলে তাদের হাতে নাস্তানাবুদ হচ্ছে সেনাবাহিনী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আফগান সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধা সেনা সরিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ বলেন, আফগানিস্তানে সেনাবাহিনী এবং তালেবানের সংঘর্ষের জেরে সীমান্তে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রন্টিয়ার কনস্টেব্যুলারি বাহিনীকে সরিয়ে কিছু সীমান্ত চৌকির দায়িত্ব সেনাকে দেওয়া হয়েছে।

শুরু থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তালেবানকে সহায়তা করে আসছে বলে বারবার অভিযোগ করেছে কাবুল। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বশেষ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তা মানতে নারাজ কাবুল।

কাবুলকে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র 

আফগানিস্তানের জন্য ১০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা ছাড়াও আফগানিস্তানে পরিষেবা এবং বিভিন্ন সামগ্রী খাতে ব্যবহারের জন্য আরও ২০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা অবমুক্ত করা হয়েছে। 

এই অর্থ দেশটির ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা এবং ওয়াশিংটনের অনুগত আফগানদের যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিবাসী ভিসায় নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে ইচ্ছুক এমন আফগানদের প্রথম দলটি আগামী মাসের মধ্যেই দেশটিতে পৌঁছার কথা। পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় প্রায় দুই হাজার ৫০০ আফগানকে ফোর্টলি স্থাপনায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। 

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ১৮ হাজারের বেশি আফগান নাগরিকের আশ্রয় আবেদন অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।