ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর অভিশংসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয় সময় শনিবার রাস্তায় নেমে তারা বিক্ষোভ করেন। 

বামপন্থী রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন ও সামাজিক গোষ্ঠীর ডাকে চতুর্থ সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ চলছে ব্রাজিলে। খবর রয়টার্সের

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেশটিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য বলসোনারোর উদাসীনতাকে দায়ী করা হয়। বলসোনারোর বিরুদ্ধে টিকা কেনায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

রিও ডি জেনিরোতে কয়েক হাজার মানুষ লাল পোশাক ও মাস্ক পরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ব্রাজিলের ২৬ রাজ্যের ২০টিতে বলসোনারোবিরোধী বিক্ষোভ চলেছে। ব্রাজিলের ৪০০টি শহরে এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

রিওসহ ব্রাজিলের অন্য শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা দেরিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু, বেকারত্বের উচ্চহারের জন্য বলসোনারোর সরকারকে দায়ী করেন। মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র জনগণের জন্য জরুরি ত্রাণের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

আয়োজক সংস্থাগুলো বিক্ষোভে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি। তবে ব্রাজিলের অন্যতম জনবহুল শহর সাও পাওলো ও রাজধানী ব্রাজিলিয়াতে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ৩০ জুন কংগ্রেসে বিরোধীরা বলসোনারোর অভিশংসনরে দাবি উত্থাপন করেন। তবে স্পিকারসহ কংগ্রেসে বলসোনারোর পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন থাকায় অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বলসোনারোর জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমছে। জনমত জরিপে আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার কাছে বলসোনারো পরাজিত হতে পারেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ব্রাজিলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ব্রাজিলের অবস্থান।