সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমের নাজরান প্রদেশের একটি এলাকার নাম বির হিমা। প্রাচীন মানুষের হাতে পাথরে খোদাই করা চিত্রকর্মের সম্ভার রয়েছে এখানে। যার মধ্যে কোনো কোনোটি সাত হাজার বছরের পুরোনো। সেই সময় থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আঁকা এসব পাথরচিত্রে উঠে এসেছে মানব সংস্কৃতি এবং আচার-আচরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের বিবর্তনের ধারা, যা আরব উপদ্বীপের ইতিহাস পর্যালোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রাচীন মানুষের জীবনধারার স্বাক্ষর বহনকারী হিমা সাংস্কৃতিক এলাকাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো। গত শনিবার ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবিষয়ক কমিটির ৪৪তম সভায় এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সভায় ইউরোপের চারটি স্থান ও স্থাপনাকেও বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর বিশ্ব ঐতিহ্যে সংযোজন হওয়া নতুন স্থান-স্থাপনার নাম ঘোষণা করা হয়।

হিমা সাংস্কৃতিক এলাকাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নির্বাচন করার কারণ ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে- হিমা একটি ঊষর ও পাহাড়ি এলাকা। সেখান দিয়ে প্রাচীন মানুষের চলাচলের পথ ছিল। দল বেঁধে মানুষ যাতায়াতের সময় হিমা এলাকায় বিশ্রাম নিত। যাযাবর ও যুদ্ধের কাফেলাও ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করত। পাহাড়ের গায়ে পাথরে পাথরে ফুটে রয়েছে তাদের কারও কারও সেই সময়ের ছবি। মানুষ, পশুপাখি, উটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আঁকা হয়েছে ছবি। প্রাচীন আরব সংস্কৃতি ব্যাখ্যায় এই সমৃদ্ধ পাথরচিত্রের এলাকাটি নতুন পথের দিশা হয়ে উঠেছে।

হিমা এলাকার পাথরচিত্রগুলোর মধ্যে বেশ কিছু প্রত্নপ্রস্তর ও নব্যপ্রস্তর যুগের। নুড়ি ও কুঠার দিয়ে পাথরের গায়ে আঁচড় কেটে চিত্রগুলো মূর্ত করা হয়। ১৯৫০ সালে প্রথম ওই এলাকা সম্পর্কে জানা যায়। তবে সৌদি আরবের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ হিমা এলাকায় নজর দেয় মূলত ১৯৭৬ সালে। তারপর সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রত্নতাত্ত্বিকরা খনন করে চিত্রগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পায়।

বির হিমা এলাকায় ছয় হাজার ৪০০টি পাথরচিত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮০০টি মানুষের এবং এক হাজার ৩০০টি উটের। ইউনেস্কোর ধারণা, ওই এলাকায় আরও প্রত্নবস্তু রয়েছে। নতুন করে খননকাজ চালানো হলে হয়তো আরও মূল্যবান কিছু পাওয়া যাবে।

ইউনেস্কোর হেরিটেজ কমিশনের প্রধান জাসির আলহারবিশ বলেছেন, 'এলাকাটির (হিমা) উচ্চমাত্রার বৈশ্বিক মূল্য রয়েছে। সেখান থেকে প্রাচীনকালে মানুষের সংস্কৃতি ও জীবন ধারণ পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাব।' ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক এলাকাটি পরিদর্শনে মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইউরোপের চার স্থান ও স্থাপনা :বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ইউরোপের চার স্থান ও স্থাপনার মধ্যে একটি হলো- গ্রেট স্পা টাউন অব ইউরোপ। অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্সসহ সাতটি দেশের ১১টি শহরকে একত্রে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ফ্রান্সের করডুয়ান লাইটহাউস, জার্মানির ডার্মস্ট্যাড আর্টিস্টস কলোনি, ইতালির পাদুয়া শহরের চতুর্দশ শতকের একগুচ্ছ ধর্মীয় স্থাপনা।