পটুয়াখালীতে ১৫ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম ছন্দপতন ঘটেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, বীজতলা ও রাস্তাঘাট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। মঙ্গল ও বুধবার দুইদিন ধরে পটুয়াখালীর উপকূলের আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিই বিরাজ করছে।   

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ মাসুদ রানা জানান, মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিগত ১৫ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ২০০৬ সালে একবার এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। 

তিনি আরও জানান, সোমবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও মঙ্গলবার ভোর থেকে বিরামহীন বৃষ্টি হয়েছে- যা বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে। যা আরও দুই/এক দিন অব্যাহত থাকবে। 

এদিকে সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় মাছধরা ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সাগরে মাছ ধরার ওপরে সরকারের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা ইলিশ শিকারে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না।    

টানা বৃষ্টিতে ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকায় বসবাসরত অধিকাংশ ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের ও পুকুর। পানিতে ডুবে আছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও সবজির খেতসহ উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ। শহর এলাকাগুলোর সড়কেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবারের দুইদিনের মুষলধারার বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে উপকূলের অর্ধশত চরের বিস্তীর্ণ জনপদ তলিয়ে যায়। 

রেকর্ড বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে -সমকাল

বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় লোকালয়। বিশেষ করে রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া, চরলতা, গাইয়াপাড়া, কোড়ালিয়া, চরমোন্তাজ, চরবেস্টিন ও চর আণ্ডা, গলাচিপা উপজেলার চরকাজল, বদনাতলী, পানপট্টি ও  ডাকুয়া এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ও নিজামপুর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে একাকার হয়ে গেছে উপকূলের ওইসব এলাকা। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। অচল হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। 

কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের মো. জিয়াউর রহমান বলেন, 'ভারি বৃষ্টিপাত আর নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে আমাদের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। আউশ ধান ও আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট সব তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।'

 রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া এলাকার গৃহবধূ মাকসুদা বেগম বলেন, 'মঙ্গলবার ভোর থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজও (বুধবার) মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ঝাপ্টায় ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। ছাতা নিয়ে বের হলেও ঝাপ্টায় তা উড়িয়ে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে রয়েছে জোয়ারের পানির তাণ্ডব। সব মিলিয়ে গত দুইদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছি।'

 এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মহিউদ্দিন জানান, ক্ষেতে এখন আমনের বীজতলা, সবজি ও কিছু আউশ ধান রয়েছে। পানি নেমে গেলে বৃষ্টিপাত কিংবা জোয়ারের পানিতে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে, এ পানি যদি তিন/চার দিন স্থায়ী থাকে বা স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয় তাহলে বীজতলাসহ সবজির অনেক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।