করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের অষ্টম দিনে সড়কে যানবাহন কম থাকলেও মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীতে আগের দিনের চেয়ে তুলনামূলক বেশি মানুষ বের হয়েছে রাস্তায়। নানা প্রয়োজনে বাইরে এসেছেন তারা।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যানবাহন কিছুটা কমেছে ঠিকই। তবে অনেককেই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। আগের মতোই আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল।

মোড়ে মোড়ে চেকপোস্টে চলছে তল্লাশি। কারণ ছাড়াই বাইরে আসা মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। টহলে আছে র‌্যাবও।

নিত্যপণ্যের দোকান খুলেছে সকাল থেকে। সবজি বিক্রেতারা সড়কে ভ্যান রেখে অবস্থান করছেন। গলিতে গলিতে ভিড় বেড়েছে মানুষের।

ফার্মগেটসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতে জরুরি নয় এমন অনেক পণ্যের দোকানও খুলেছে। অলিগলিতে দোকানগুলোয় অর্ধেক শাটার নামিয়ে বেচাকেনা চলছে আরও আগে থেকেই।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা বৃহস্পতিবারও ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালিয়েছেন।

ঢাকায় গত পাঁচ দিনে প্রতিদিনই পাঁচশর বেশি মানুষকে অকারণে ঘর থেকে বের হওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাজা দেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে। তবু যানবাহন ও জনচলাচল বেড়েই চলেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম জানান, বিধিনিষেধ অমান্য করায় বৃহস্পতিবার ঢাকায় ৫৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন ২০৬ জনকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৪৩১টি যানবাহনকে ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

এদিকে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছালেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সচেতনতা এখনও কম। মাস্ক পরতে মানুষের অনীহা কাটছে না কিছুতেই। কেউ থুতনিতে, কেউ পকেটে মাস্ক রাখছেন। আবার মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছেন কেউ কেউ।

সবজি বিক্রেতা, মুদি দোকানি, ভাসমান ব্যবসায়ী, রিকশাচালকের মতো শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা সবচেয়ে কম। করোনার শুরুতেবিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও এখন আর তা চোখে পড়ে না।

করোনা পরিস্থিতিতে গত পহেলা জুলাই থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এরপর তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ঈদের কারণে ৮ দিন লকডাউন তুলে নিয়ে আবার ২৩ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। এই লকডাউন চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত।