কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ আর নেই। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না… রাজিউন)।

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার।

৭৩ বছর বয়সী আলী আশরাফ গত নয়দিন ধরে লাইফসাপোর্টে ছিলেন বলে জানা গেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফ গলব্লাডার ও নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এমপি আলী আশরাফ সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ নিয়ে পঞ্চমবার তিনি জাতীয় সংসদে কুমিল্লার ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

২০০১ সালে সাবেক স্পিকার হুময়ুন রশীদের মৃত্যুর পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ডেপুটি স্পিকার থেকে স্পিকারের দায়িত্বে পান। ওই সময় ডেপুটি স্পিকারের চেয়ারে বসেন আলী আশরাফ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

আলী আশরাফ ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি শুরু করেন। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সত্তরের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফের নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজি রমিজ উদ্দিনকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন।

এরপর বলা চলে সবকটি নির্বাচনেই তিনি প্রার্থী হন। শুধু বিতর্কিত ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।