সামরিক জান্তা ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা সাগায়িংয়ের কানি শহরে ৪০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে আবারও গুরুত্ব আরোপ করেন। 

কিয়াও মোয়ে তুন লিখেছেন, কানি শহরের কাছে একটি গ্রামে সেনারা ১৬ জন গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। ৯ ও ১০ জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে ১০ হাজারেরও বেশি লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।  খবর এনডিটিভির

তিনি বলেন, ২৬ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় যোদ্ধাদের সংঘর্ষের পর আরো ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ২৮ জুলাই আরেকটি গ্রামে ১৪ বছরের এক বালকসহ ১১ জনকে হত্যা করা হয়।

গুতেরেসের কাছে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে আলাপকালে কিয়াও বলেন, ‘মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর এরকম নৃশংসতা চালাতে দেয়া যায় না। জাতিসংঘ, বিশেষ করে নিরাপত্তা কাউন্সিলকে এখন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।’

স্থানীয় একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার সাধারণ নাগরিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন দমাতে সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত ৯০০ মানুষকে হত্যা করেছে।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কিয়াও মোয়ে তুন প্রথম থেকে জান্তাবিরোধী অবস্থান নেন। সামরিক জান্তা তার আনুগত্য লাভে ব্যর্থ হয়ে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে। তবে জাতিসংঘ প্রথম থেকেই জান্তাবিরোধী মনোভাব পোষণ করে এবং কিয়াও মোয়ে তুনকে মিয়ানমারের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করে।

এ দিকে গত রোববার মিয়নামারের সামরিক জান্তা বলেছে, ২০২৩ সালে আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।