লকডাউন প্রত্যাহারের পর প্রথম দিনে বুধবার সারাদেশে সব দোকানপাট খুলেছে। রাজধানীর দোকানপাট এবং শপিংমলগুলোতে ক্রেতা তেমন আসেননি। বলার মতো বেচাবিক্রিও হয়নি। তাই ধোয়ামোছার কাজ এবং পণ্য সাজাতেই ব্যস্ত ছিলেন দোকানিরা।

ঈদের ছুটি এবং লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যে একাধারে ২০ দিন বন্ধ ছিল দোকান ও শপিংমলগুলো। মুদি-ওষুধসহ কিছু দোকান শর্ত মেনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা ছিল।

রাজধানীর অন্যতম বড় শপিংমল বসুন্ধরা সিটিতে দিনের শেষ দিকে কিছুটা ক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ না করতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছিলেন মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা। পোশাক ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি ছিল। বেচাবিক্রিও বেশি হয়েছে এসব দোকানে।

তবে সব মার্কেট এবং দোকানপাটে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। বিশেষ করে ছোট মার্কেট এবং দোকানপাটে মাস্ক পরার মতো নূ্যনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানেননি অনেক ক্রেতা এবং বিক্রেতা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, সারাদেশের সব দোকানপাট ও মার্কেট খুলেছে। দীর্ঘদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে আবার ব্যবসায় ফেরার জন্য মুখিয়ে ছিলেন মালিকরা। প্রথম দিনে মৌলিক এবং জরুরি নিত্যপণ্যের বাইরে অন্যান্য পণ্য খুব একটা বেচাবিক্রি হয়নি। কারণ, এখনকার মুহূর্তটি বিলাসী পণ্য কেনাবেচার সময় নয়।

ধীরে ধীরে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রথম দিনে তারাও খুব বেচাবিক্রি আশা করেননি। পুঁজি রক্ষায় পণ্য খুলে আপাতত বিনষ্টের হাত থেকে রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

কর্মীর সংখ্য ১৫-এর কম- এরকম দোকানপাট ও শপিংমলের সংখ্যা সারাদেশে ৫৬ লাখ। ফুটপাতের দোকান, ভ্যানে করে পণ্য বিক্রি ও মৌসুমি অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগ এই হিসাবের বাইরে।

এদিকে ছোট-বড় সব ধরনের শিল্পকারখানাও খুলেছে গতকাল। অনেক কারখানায় কালই উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিছুটা শিথিল লকডাউনের মধ্যে ধোয়ামোছাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ সেরে রেখেছিলেন উদ্যোক্তারা। তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প আগেই খুলেছে। গত ১ আগস্ট থেকে এসব শিল্পকারখানা খোলার অনুমতি দেয় সরকার।