আফগানিস্তান ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠক ডাকতে কাজ শুরু করেছে রাশিয়া। 

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জমির কাবুলভ বলেছেন, কাবুল থেকে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা মস্কোর নেই। তালেবান নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ আশ্বাস দিয়েছে।

তালেবানের হাতে রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন হয়েছে। এ খবরে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘তালেবান দূতাবাসের কার্যক্রমে কোনো বাধা না দিলে কাবুলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক কৌশল পরিবর্তন করবে না। আর কাবুলে তালেবানের উপস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হবে, ততক্ষণ আমাদের কার্যক্রম চলবে।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, আফগান সামরিক বাহিনী যদি নিজের দেশকে ধরে রাখতে না পারে, তাহলে আরও এক বা পাঁচ বছর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কোনো পার্থক্য নেই। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারাইটিস শিনাস এক টুইট বার্তায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ইউরোপের অভিবাসন এবং আশ্রয়-সংক্রান্ত নিয়মাবলির সম্পূর্ণ পরিবর্তন করার জন্য আমাদের অপেক্ষার পালা ফুরিয়েছে। 

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান সংকটে যুক্তরাজ্যের করণীয় নির্ধারণ করতে গ্রীষ্ফ্মের ছুটি বাতিল করে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকতে পারেন। 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী জিও নিউজ টিভিকে বলেন, আমরা আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে আমরা আমাদের দূতাবাস বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। 

এদিকে, কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ না হলেও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে নয়াদিল্লি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন। 

এছাড়া একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সুইডিশ রেডিও জানিয়েছে, সুইডেন তার দূতাবাসের সব কর্মীকে কাবুল থেকে সরিয়ে নেবে।

খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস আফগানিস্তানে সংঘাতের অবসান ঘটাতে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, দেশটির জনগণ যেন শান্তি, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারে- ঈশ্বরের কাছে আমার এই প্রার্থনা।