একুশ বছর পর আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফের আসীন হতে যাওয়া তালেবান বাহিনী বলছে, কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নয়, তারা সরাসরি ক্ষমতা বুঝে নিতে চায়।

রোববার প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি তার মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে তাজিকিস্তানের উদ্দেশ্যে কাবুল ত্যাগ করার পর তালেবানের দুই কর্মকর্তার বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রোববার সকালে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদের দখল নেয় তালেবান। কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তালেবান শহরটির দখল নিতে সক্ষম হয়। জালালাবাদ দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৮টির রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ এখন তালেবানের হাতে। এরপর দুপুরের দিকে খবর আসে তালেবান বাহিনী রাজধানী কাবুল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

এদিন বিকেল ৪টার দিকে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আশরাফ গানি। 

তালেবানের উপপ্রধান মোল্লা আব্দুল ঘানি বারাদার আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বলে  খবর এসেছে আরব গণমাধ্যমগুলোতে।

তালেবানের অস্থায়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মিরজাকওয়াল। 

আফগান গণমাধ্যমে খবর এসেছে, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক আলী আহমাদ জালালি। 

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় এক টুইট বার্তায়  তালেবানদের মুখপাত্র সুহায়েল আফগানিস্তানে ‘আগ্রাসনকারীদের ক্ষমা’ ঘোষণা করেছেন। 

তালেবানের এক নেতার বরাত দিয়ে রয়টার্স রোববার সকালে জানিয়েছিল, রাজধানী শহরটিতে যোদ্ধাদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে বলেছে তালেবান। কেউ শহরটি ত্যাগ করতে চাইলে, তাদের এ সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাহিনীটি। এ ছাড়া নারীদের নিরাপদে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

এদিকে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর শহরটির অধিবাসীরা রোববার দুপুরের পর থেকে কাবুল ছাড়তে শুরু করেছেন।  

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এএফপিকে জানিয়েছেন, রোববার বিকেলে কাবুল দূতাবাস থেকে তাদের সব কর্মীকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 সরকারি বাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং চেকপয়েন্টগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তালেবান যোদ্ধারা শহরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে পড়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট ঠেকাতে’ তারা শহরে প্রবেশ করেছে।

তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেছেন, আফগানরা পালিয়ে যাক, তারা তা চান না। বরং তারা চান, নাগরিকরা দেশে থেকে সংঘাত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে সহায়তা করুক।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিম টিভি লাইভে থাকা অবস্থায় তাকে ফোন করেন শাহিন। আফগানদের তিনি আশ্বস্ত করেন, তাদের জীবন এখন ‘নিরাপদ’।

“আফগানিস্তানের মানুষকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, বিশেষ করে কাবুলের বাসিন্দাদের, তাদের সম্পত্তি, জীবন, সবই নিরাপদে থাকবে। কারও ওপর কোনো প্রতিশোধ আমরা নেব না।”