তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কানাডা, জার্মানির ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তান থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও স্পেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট রাতে কাবুল থেকে যাত্রীদের নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পৌঁছায় নিউজিল্যান্ডের একটি ফ্লাইট। আফগানিস্তান ছেড়েছেন দেশটির  সেনা সদস্যরা। 

এই মুহূর্তে কাবুল বিমানবন্দরে নিউজিল্যান্ডের আর কোনো নাগরিক অবস্থান করছেন না। তবে কাবুল শহরে কয়েকজন এখনও রয়ে গেছেন। তারা নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। 

আফগানিস্তানে আর কোনো উড়োজাহাজ পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

আফগানিস্তান থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম গুটানোর ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ডাটনও। 

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সেনাসদস্যরা কাবুল থেকে চার হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন। 

শুক্রবার সকালে কাবুল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পৌঁছেছে স্পেনের দুটি ফ্লাইট। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান থেকে হুমকির মুখে থাকা আফগান ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। 

আফগানিস্তান ত্যাগ করা স্পেনের শেষ দুটি ফ্লাইটে সেনাসদস্যসহ স্পেনের ৮১ নাগরিক ছিলেন। পাশাপাশি পর্তুগালের ৪ সেনা ও ৮৫ আফগানও ছিলেন বলে জানানো হয়েছে সরকারি ওই বিবৃতিতে। এ নিয়ে ১ হাজার ৯০০ জনকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিল দেশটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে চূড়ান্ত ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনীর সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে।

গত সপ্তাহে কানাডা দেশটি থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের কথা জানানোর পর বৃহস্পতিবার জার্মানি আনু্ষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, দেশটি থেকে তাদের সব সেনা, কর্মকর্তা ও নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে দেশটিতে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিক ও ২০ বছরের যুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বধীন বাহিনীকে সহায়তা করা আফগানদেরও নিরাপদে নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলো। 

৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করা যাবে না বলে মনে করছে বেশ কয়েকটি দেশ। তারা বলছে, এই সময়সীমা না বাড়ালে সঙ্কট বাড়তে পারে। কিন্তু তালেবান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ৩১ আগস্টের পর সময়সীমা বাড়ানো যাবে না।

হোয়াইট হাউজের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে ১ লাখ ৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তান ছেড়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।