কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর বন্ধ হয়ে উদ্ধার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হয়েছে।

পেন্টাগনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি ও আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কাবুল বিমানবন্দর থেকে আবারও যাত্রী নিয়ে নিরাপদ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটছে বিমান। 

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা ও ২৮ জন তালেবান সদস্য রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুইটি শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। 

বৃহস্পতিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসআই-এস ও আইএসআই-এসকে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কাবুলে হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তালেবানও বলেছে, বিদেশি বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর প্রকৃত দোষীকে খুঁজে বের করে তারা যথোপযুক্ত শাস্তি দেবেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোমা হামলার পর কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে, যারা আফগানিস্তান থেকে পালাতে চান। বিমানবন্দরের গেটে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিমানবন্দরের প্রাচীর টপকে অনেকে ভেতরে ঢুকতে চেষ্টা করছেন। কাবুল থেকে ছেড়ে যাওয়া বিমানগুলোও যাত্রীতে পুরো ঠাসা ছিল।

বিমানযোগে কাবুল থেকে মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠিন বিমানযাত্রা’ হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না মানুষদের সরিয়ে আনার পর ফলাফল আসলে কী হবে।’

গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের দখল নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৩ হাজার মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) -এর মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু আফগান নাগরিকদের সরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

তিনি বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আফগানিস্তানে জরুরি ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার বিকল্প তা হতে পারে না।’

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও দেশ ছাড়তে পারছেন না।সঙ্কটাপন্ন এই মানুষগুলোর বাইরে যাওয়ার কোনো উপায়ও নেই।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান যোদ্ধারা মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা লোকদের ঘরে ঘরে তল্লাশি করছে। এতে প্রতিশোধের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ১১০ জন নিহত হয়েছেন।