কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জোড়া আত্মঘাতী বোমা হামলায় অপরাধী ও তাদের উস্কানিদাতাদের বিচারের আওতাওয় আতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। 

শুক্রবার পনের সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সন্ত্রাসবাদের এই নিন্দনীয় কাণ্ডের অপরাধী, সংগঠক, অর্থদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহি করার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে জোর দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের নিয়মকানুন মেনে এ ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। 

বিবৃতিতে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ‘আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিশ্চিত করতে হবে যেন এই দেশটিকে অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। এই ভূখণ্ডে যেন আফগানরা আর কোনো সন্ত্রাসীদের সমর্থন না করে।’ 

আফগানিস্তান থেকে সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নিতে আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের কাজের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য-যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স আফগানিস্তান প্রসঙ্গে খসড়া তৈরি করছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুইটি শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। 

এ ঘটনায় নিহতের হয়েছেন ১১০ জন, যাদের মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা ও ২৮ জন তালেবান সদস্য রয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসআই-এস ও আইএসআই-এসকে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কাবুলে হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তালেবানও বলেছে, বিদেশি বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর প্রকৃত দোষীকে খুঁজে বের করে তারা যথোপযুক্ত শাস্তি দেবেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোমা হামলার পর কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে, যারা আফগানিস্তান থেকে পালাতে চান। বিমানবন্দরের গেটে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিমানবন্দরের প্রাচীর টপকে অনেকে ভেতরে ঢুকতে চেষ্টা করছেন। কাবুল থেকে ছেড়ে যাওয়া বিমানগুলোও যাত্রীতে পুরো ঠাসা ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউজকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার সামরিক ও বেসমারিক মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) -এর মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু আফগান নাগরিকদের সরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

তিনি বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আফগানিস্তানে জরুরি ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার বিকল্প তা হতে পারে না।’

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও দেশ ছাড়তে পারছেন না।সঙ্কটাপন্ন এই মানুষগুলোর বাইরে যাওয়ার কোনো উপায়ও নেই।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান যোদ্ধারা মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা লোকদের ঘরে ঘরে তল্লাশি করছে। এতে প্রতিশোধের আশঙ্কা বাড়ছে।