বাংলাদেশকে ১ কোটি ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা দিবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। 

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনজি টিরিংক এই প্রতিশ্রতি দেন। 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জন্য নতুন জিএসপি (পোশাক রপ্তানির জন্য বিশেষ সুবিধা) নীতিমালা ২২ সেপ্টেম্বর গ্রহণ করা হবে।

কসমস ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক: ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বর্তমান জিএসপি ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। ২২ সেপ্টেম্বর নতুন জিএসপি গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান জিএসপিতে মানবাধিকার ও শ্রম অধিকারের প্রাধান্য ছিল। নতুন জিএসপিতে এর সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসনও যুক্ত হবে।’

টিকা সরবরাহের বৈশ্বিক মোর্চা কোভ্যাপের কার্যক্রমে ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তার নানাদিক তুলে ধরে টিরিংক বলেন, চলতি বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২০ কোটি ডোজ টিকা সহায়তা দেবে ইইউ। তিনি বলেন, ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরো দেওয়ার মাধ্যমে কোভ্যাপ কার্যক্রমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাতা ইইউ। পাশাপাশি ১৬ বিলিয়ন ইউরোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। 

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই অর্থ খরচ হবে। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু এই অঞ্চল নয়, পুরো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইইউ এর কার্যক্রম বৃদ্ধি করা সম্ভব।

টিরিংক বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি রুবানা হক, পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জায়দি সাত্তার এবং কসমস ফাউন্ডেশনের ইমেরিটাস উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন।