আফগানিস্তান থেকে গুটিয়ে যাওয়ার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও সামরিক উপস্থিতি কমাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে অত্যাধুনিক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে নিল দেশটি।

ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। তাদের হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে হুতিরা সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্রসহ বিভিন্ন স্থান টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে হুতিরা। এর মধ্যেই গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আবর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে প্রত্যাহার করা হয়েছে প্যাট্রিয়টিক ব্যাটারিগুলোও। খবর আলজাজিরার

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্থানে উদ্বেগ বেড়েছে আরব দেশগুলোতে। আফগানিস্তানের মাটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়ই রিয়াদের বাইরে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয় ওয়াশিংটন।

মধ্যপ্রাচ্যে তথাকথিত ইরানের হুমকি মোকাবিলায় আরব দেশগুলোতে এখনও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের 'গুটিয়ে ফেলা নীতিতে' রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল এ অঞ্চলের রাজতান্ত্রিক সরকারগুলো নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে।

বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনায় গতি নেই। তেহরানের আচরণ কী হবে, ভবিষ্যতে এর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরব থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার হুতিদের আরও উজ্জীবিত করতে পারে।

২০১৯ সালে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের মোট তেল উৎপাদনের অর্ধেকই বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনাতেও রিয়াদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির একজন গবেষক তৃতীয় জেমস এ. বেকার। তার মতে, এই অঞ্চলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের অনেকের কাছেই এখন স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র আর উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি ততটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়।

সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, ওয়াশিংটন আসলে রিয়াদকে ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বর্তমান জো বাইডেন প্রশাসন- সবার কাছ থেকেই বার্তাটি পাওয়া গেছে। ফলে মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।